শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ জুন, ২০২৬ (বাসস): বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না, বরং গণমাধ্যমকে পুরোপুরি স্বাধীন দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তবে শুধু সমালোচনা নয়, দেশের স্বার্থে সরকারের ভালো কাজগুলোকেও গণমাধ্যমে সমানভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্ট (বিএজে) আয়োজিত ‘আওয়ামী শাসন আমলে গণমাধ্যম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনও গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করবে না, আমরা গণমাধ্যমকে স্বাধীন দেখতে চাই। তবে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার নামই শুধু স্বাধীনতা নয়। আপনারা সমালোচনা করবেন, কিন্তু সরকারের ভালো দিকগুলোও জনগণের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরবেন।
তিনি আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদ দূর করার জন্য সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সরকার গণমাধ্যমের সাথে সবসময় একটি সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, কারণ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
আওয়ামী লীগ শাসনামলের সমালোচনা করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনেক সাংবাদিকের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন হয়েছে। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের সেই অন্ধকার অধ্যায় মুছে মুক্ত ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, অটোক্রেসি (স্বৈরাচার) থেকে ফ্যাসিবাদের ইতিহাস হচ্ছে আওয়ামী লীগের ইতিহাস। শেখ মুজিব আমার কাছে ফ্যাসিবাদের আইকন ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি (শেখ মুজিব) স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং শেখ হাসিনা মিডিয়াকে চাটুকারে পরিণত করেছিলেন।
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, আব্দুস সালামের মতো কিংবদন্তি সম্পাদককে চাকরিচ্যুতির মাধ্যমে শেখ মুজিব ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু করেছিলেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নিয়ম হচ্ছে, তাদের একটি আইকনের প্রয়োজন হয় ফ্যাসিবাদকে বৈধতা দেওয়ার জন্য। যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা মহান জুলাই বিপ্লবের পর থেকে সবসময় শেখ মুজিবকে শেখ হাসিনার থেকে পৃথক করার চেষ্টা করছে। আসলে শেখ মুজিবের সঙ্গে শেখ হাসিনার কোনো পার্থক্য নেই।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণমাধ্যম সাহসী ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমকে এখন আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিএজে-এর সভাপতি এম.আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুম।
মূলপ্রবন্ধে অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণ। এর চূড়ান্ত ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন হয়তো সময়ই করবে। তবে একটি রাজনৈতিক সত্য ইতোমধ্যে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যখন গণমাধ্যম জনগণের ভাষা হারিয়ে ফেলে, তখন জনগণ রাজপথে নিজেদের নতুন ভাষা তৈরি করে নেয়; যখন গণমাধ্যম বাস্তবতাকে ব্ল্যাকআউট করতে চায়, তখন বাস্তবতা নিজেই ইতিহাস হয়ে স্বৈরাচারের সামনে এসে দাঁড়ায়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক যাত্রার প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে। সামনে নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং নতুন বন্দোবস্তের রূপরেখা রয়েছে। এই যাত্রাপথে একটি স্বাধীন, নির্ভীক ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম অপরিহার্য। কারণ গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর ভোট দেওয়ার মধ্যে নিহিত নয়; তা নিহিত রয়েছে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে নিঃশঙ্কচিত্তে সত্য বলার ও শাসককে প্রশ্ন করার সাহসের মধ্যে।
সভায় বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, ডিআরইউ’র বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ও সরদার ফরিদ আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।