শিরোনাম

বিপুল ইসলাম
লালমনিরহাট, ১৬ জুন ২০২৬ (বাসস): জেলায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগকে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
লালমনিরহাটের সাবেক চেম্বার সভাপতি ও সমাজসেবক আব্দুল হামিদ বাবু বাসসকে বলেন, এটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। যা স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক লালমনিরহাটে ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনাকে অর্থনৈতিক বিকাশের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাসসের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, লালমনিরহাটে ইপিজেড স্থাপিত হলে তা উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্প বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
জেলা বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন বলেন, এ প্রকল্প দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।
সাংবাদিক জিন্নাতুল জিন্না ও আলফুর রহমান আলতাফ বলেন, ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে জেলার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। নতুন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, দেশের রপ্তানি ও শিল্পায়নের মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটসহ বরিশালে নতুন ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে উন্নয়ন প্রস্তাবের অংশ হিসেবে লালমনিরহাটে ইপিজেড স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জেলার কৃষিভিত্তিক উৎপাদন, বিশেষ করে ধান, আলু ও ভুট্টার প্রাচুর্য এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর ও রেল যোগাযোগ সুবিধাকে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণকে আর ঢাকামুখী হতে হবে না। জেলাতেই নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে বেপজার অধীনে দেশের আটটি ইপিজেড রয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট দেশের রপ্তানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বাসসকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্র সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ, জমির প্রাপ্যতা যাচাই এবং অবকাঠামোগত সুবিধা পর্যালোচনার কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. সেলিম সবুজ এ উদ্যোগকে ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাটের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
লালমনিরহাটের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম মান্না বলেন, ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হলে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি এ উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি এবং ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।