বাসস
  ০৬ জুন ২০২৬, ১৯:২৫

নওগাঁয় ৪ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা 

ছবি : বাসস

বাবুল আখতার রানা

নওগাঁ, ৬ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বরেন্দ্র জেলা নওগাঁয় চলতি বছর ৩০ হাজার পাঁচশ’ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় চার লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, এ বছর জেলায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্য হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগানে ফলন হয়েছে। যা থেকে চলতি বছর প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছিল। 

চলতি বছর জেলায় ১৮ হাজার ৫২২ হেক্টর জমি আম্রপালি আম বাগান রয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে বারি-৪, ২ হাজার ৩২৩ হেক্টও জমিতে আশ্বিনা, একহাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে ল্যাংড়া, একহাজার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে খিরসাপাত এবং ৯০০ হেক্টর জমিতে নাক ফজলির বাগানে আমের ফলন হয়েছে। এছাড়া বিদেশী কিছু জাতের আম বাগান রয়েছে।

জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পতœীতলা উপজেলার আংশিক এলাকায় জেলায় ৭০ শতাংশের বেশি আম বাগান রয়েছে। এসব বাগানে আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, হিমসাগর, নাক ফজলি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা, আশ্বিনা ও বারী-৪ সহ প্রায় ১৬ জাতের আম উৎপাদন হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব আম রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। পাশাপাশি বিদেশেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছে নওগাঁর আম।

পোরশা উপজেলার বন্ধুপাড়ার কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান আলম জানান, বর্তমানে ২২০ বিঘা জমিতে তার আম বাগান রয়েছে। এবার বৃষ্টির কারণে সেচ খরচ কমেছে এবং আমের সাইজও ভালো হয়েছে। 

একই উপজেলার সরাইগাছী গ্রামের আম চাষী কামাল উদ্দিন মিয়া জানান, ২০০৪ সালে প্রথম মাত্র ৮ বিঘা জমিতে আম চাষ শুরু করেন।এবার একশ’ বিঘা জমিতে গৌড়মতি আম চাষ করেছেন। এবছর নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় আম আকারে বড় হয়েছে, রোগ-বালাই তেমন নেই বললেই চলে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতি বিঘা জমি ১২ বছরের জন্য লিজ নিলে জমির মালিককে দিতে হয় বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। একবিঘা জমিতে আম চাষের খরচ বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় একলাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। আম চাষের কারনে এ খাতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আম চাষী আজগর হোসেন জানান, ৫০ বিঘা জমিতে তার আমের বাগান রয়েছে। এবার মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে আছে। শুরুতে আমের মুকুল যেমন ভাল ছিল, আমও তেমন ভাল হয়েছে। 

সাপাহার আম আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত জানান, জেলায় আমের বৃহৎ ৩টি মোকাম হলো সাপাহার, নোচনাহার ও মিনাবাজার। আমের মৌসুমে সারাদেশ দেশ থেকে আসা ট্রাক ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবসায়ীরা আম পরিবহন করে থাকেন। আম চাষী ও আম ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল জানান, জেলায় ১৬ জাতের আম উৎপাদন হয়ে থাকে। জানুয়ারির শেষ দিক থেকেই আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছিল। মুকুল ধরার সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কুয়াশার প্রকোপ কম থাকায় আম গাছ থেকে তেমন ঝরে পড়েনি। ফলন নিশ্চিত করতে আম চাষীরা প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেছেন। 

তিনি আরও জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও পরিচর্যার সমন্বয়ে নওগাঁর আম বাগানগুলোতে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় তিনহাজার কোটি টাকার আম ব্যাণিজ্য হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অপরিপক্ক আম যেন বাজারে না আসে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আম সংগ্রহ করতে জেলাজুড়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আর আমে যদি কেমিক্যাল  দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।