শিরোনাম

ইব্রাহিম খলিল মামুন
কক্সবাজার, ১৫ মে, ২০২৬ (বাসস) : কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজারে এখনো মৌসুমি গবাদী পশুর হাট না বসলেও খামারি পর্যায়ে চলছে গরুসহ বিভিন্ন পশু কেনাবেচা। ইতোমধ্যে খামারগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আনাগোনায়। এবার কোনবানির জন্য জেলায় অভ্যন্তরীণভাবে যে পরিমাণ গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে; তার সমপরিমানেরও বেশি যোগান থাকায় সংকটের আশংকা থাকবেনা বলে জানিয়েছেন, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে গরু আসার কারণে দেশীয় গরুগুলোতে রোগবালাইয়ের সংক্রমণ ছড়ানোর পাশাপাশি খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশংকা ব্যবসায়িসহ সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন জাতের গরু রাখা হয়েছে ‘মায়ের দোয়া ডেইরি ফার্ম’ নামের একটি খামারে। কক্সবাজার শহরের ১নং ওয়ার্ড কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে অবস্থিত এই খামারে রয়েছে বিভিন্ন জাতের আকর্ষণীয় কোরবানির গরু। খামারটিতে শাইওয়াল, অস্ট্রেলিয়ান, ডাবসি ও দেশি জাতের অন্তত ৪০টির বেশি গরু এবারের কোরবানির বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খামার মালিক। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে- কালো মানিক, টাইগার, বাহুবলী, শাহেনশাহ, কালাবাহাদুর, বুলেট কিং ও ডেঞ্জার লালুসহ বিশেষ নামের কয়েকটি গরু।
গত ৮ বছর আগে শুরু করা এই খামারটিতে এখন দুগ্ধজাত গাভী, বাছুর ও ষাড়সহ অন্তত শতাধিক গরু রয়েছে। কোন ধরণের মোটাতাজাকরণের ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহার না করেই গরুগুলোকে খাবার হিসেবে শুধু ঘাস, ভুষি ও খৈলসহ সাধারণ উপকরণই খাওয়ানো হয়। প্রতিটি গরুই প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পরিচর্যা করায় ক্রেতাদের নজর কাড়ছে খামারটির গরুগুলো। তবে খামারটির কোরবানিযোগ্য গরুগুলোর মধ্যে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে -‘কালো মানিক’। বিশেষ যতেœ বেড়ে তোলা ১৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এই গরুর ওজন ২২ মনের বেশি। নজর কাড়া দেহ ও সৌন্দর্য্যের কালো মানিকের দাম হাঁকানো হয়েছে ৮ লাখ টাকা।
মায়ের দোয়া ডেইরি ফার্মের মালিক নুরুল ইসলাম বাসস’কে জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। খাবারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গরু প্রতি খরচও অনেক বেশি। খামারটির কোরবানিযোগ্য গরুগুলোর দাম ২ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় কালো মানিকের দাম ইতোমধ্যে ক্রেতাদের কেউ ৫ লাখ, কেউ ৬ লাখ; আবার কেউ সাড়ে ৬ লাখ টাকা হাঁকিয়েছে। আর পারিবারিক স্বজনদের মত পরিচর্যায় পালন করা এসব গরু এবার কোরবানির বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়ায় মন খারাপ লাগার কথা বলছেন, পরিচর্যাকারি শ্রমিকরা।
এদিকে খামারটিতে কোরবানির গরু দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে ক্রেতা ও স্থানীয় দর্শনার্থীরা। এদের কেউ গরুগুলো দেখছেন, কেউ দর জানছেন; কেউ আবার দর কষাকষি করছেন। তারা বলছেন, এই খামারের গুরুর সৌন্দর্য্য, মান ও দাম অন্য খামারের চাইতে আকর্ষণীয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় এবার কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯৫টি এবং খামারগুলোতে উৎপাদিত পশুর সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি। আর জেলায় এবারের কোরবানি পশু কেনাবেচার জন্য স্থায়ী ও মৌসুমি হাটবাজারের সংখ্যা ৫৬টি। এদিকে হাটে বিক্রির জন্য আনা গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অসুস্থতার চিকিৎসা দিতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারী চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠন করা হয়ে ২৭টি মেডিকেল টিম।
তবে মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আসা গরুর কারণে খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় গরুগুলো বিভিন্ন সংক্রমণ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশংকার কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ, এম, খালেকুজ্জামান বলেন, ‘গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে খরচ বেড়েছে বলে খামারিরা বলছেন। আমরা খামারিদের পরামর্শ দিয়েছি, কাঁচা ঘাঁস ও খড় বেশি পরিমাণ খাওয়ানোর জন্য। এতে কিছু খরচ কমবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ ক্ষতিকর পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং প্রতিটি পশুর হাটে মেডিকেল টিম থাকবে যেন কোনো অসুস্থ পশু বিক্রি হতে না পারে।’