শিরোনাম

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): এমআরটি লাইন-১-এর রোলিং স্টক ও ডিপো সরঞ্জাম সংগ্রহের টেন্ডার ডকুমেন্ট আগামী ১২ অক্টোবর খোলার প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ‘কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ (সিপি)-১২-এর আওতায় রোলিং স্টক ও ডিপো সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে। অন্যদিকে সিপি-১১-এর আওতায় বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
বাসসকে তিনি বলেন, দেশের প্রথম আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১-এর নির্মাণকাজ ১২টি কন্ট্রাক্ট প্যাকেজের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। এদিকে, পিতলগঞ্জ ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
৩১.২৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১-এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯.৮৭২ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড রুট রয়েছে, যেখানে ১২টি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে। এছাড়া নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত ১১.৩৬৯ কিলোমিটার রুটে সাতটি উড়াল ও দুটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে।
প্রাথমিকভাবে ২৫টি ট্রেন সেট দিয়ে মেট্রোরেল পরিচালনা শুরু হবে। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে আটটি কোচ। তবে ভবিষ্যতে ট্রেন সেটের সংখ্যা ৩৬টিতে উন্নীত করার ব্যবস্থা রাখা হবে।
প্রতিটি ট্রেনের ছয়টি মধ্যবর্তী কোচে সর্বোচ্চ ৩৯০ জন করে যাত্রী বহন করা যাবে। আর দুইটি ট্রেইলার কোচে সর্বোচ্চ ৩৭৪ জন করে যাত্রী ধারণ করা যাবে। ফলে প্রতিটি মেট্রো ট্রেনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে।
মেট্রো ট্রেনগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন বিরতি বা হেডওয়ে হবে ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
এমআরটি লাইন-১ কমিউনিকেশন-বেইজড ট্রেন কন্ট্রোল (সিবিটিসি) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ভূগর্ভস্থ অংশে সর্বোচ্চ পরিচালন গতি হবে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং উড়াল অংশে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার।
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। উভয় রুটের বিস্তারিত সমীক্ষা, জরিপ, বেসিক ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এবং পিতলগঞ্জ ডিপোর জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রস্তাবিত মেট্রো স্টেশন এলাকায় ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ এবং প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
সিপি-১-এর আওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ মৌজায় ৩৫.৯০ হেক্টর বা ৮৮.৭১ একর জমিতে এমআরটি লাইন-১ ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজ চুক্তির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট সম্পন্ন হয়।
এদিকে, অন্যান্য কয়েকটি প্যাকেজের ক্রয় কার্যক্রমও এগিয়েছে।
সিপি-০২ ও সিপি-০৬-এর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সম্মতি দেওয়ার পর সিপি-০৪-এর আওতায় সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতার সঙ্গে কন্ট্রাক্ট-পূর্ব আলোচনা বর্তমানে চলছে।
সিপি-০৫-এর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতা দরপত্রের বৈধতার মেয়াদ বাড়াতে সম্মত না হওয়ায় ডিএমটিসিএল সিপি-০৪ ও সিপি-০৬-এর মধ্যে কাজগুলো ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিপি-০৭-এর আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও জাইকা সম্মতি দিয়েছে। এ প্যাকেজের সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতার সঙ্গে চুক্তির আগে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সিপি-০৮-এর কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়ন প্রতিবেদন সম্মতির জন্য জাইকার কাছে পাঠানো হয়েছে।
ডিএমটিসিএল বোর্ড সিপি-০৯ ও সিপি-১০-এর ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠাতে প্রস্তাবগুলো সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হবে।
সিপি-০৯ ও সিপি-১০-এর আওতায় নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ পর্যন্ত পূর্বাচল রুটের অবশিষ্ট উড়াল ভায়াডাক্ট ও স্টেশন এবং বিভিন্ন সংযোগস্থলের সিভিল কাঠামো নির্মাণ করা হবে।
অবশিষ্ট প্যাকেজগুলোর টেন্ডার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। সিপি-১১-এর জন্য ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে টেন্ডার আহ্বান করা হয় এবং তা ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর খোলার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, সিপি-১২-এর টেন্ডার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে খোলা হয়েছে এবং বর্তমানে তা মূল্যায়নাধীন রয়েছে।
প্রকল্পটি শেষ হলে ঢাকায় দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন সেবা চালুর মাধ্যমে জনপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ উন্নত করা এবং যানজট কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।