শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : মহাকাশকে জানার আগ্রহ আর ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু-কিশোরদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ঢাকার এআইইউবি ক্যাম্পাস।
গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে রকেট, স্যাটেলাইট, মহাকাশ অভিযান ও আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের জ্ঞান ও মেধার পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় তৃতীয় ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড’-এর চূড়ান্ত পর্বে।
গতকাল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাছাই হয়ে আসা ২০২ জন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগীদের বয়স ছিল ৬ থেকে ১৬ বছর। বয়স ও শেখার স্তর বিবেচনায় তাদের চারটি পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, এবারের অলিম্পিয়াডকে শুধু সাধারণ কুইজ প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিষয়কে প্রতিযোগিতার পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ছোটদের জন্য ছিল মহাকাশবিজ্ঞান, সৌরজগৎ, গ্রহ-নক্ষত্র, রকেট ও স্যাটেলাইটের মতো মৌলিক বিষয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত বড় শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয় মহাকাশ রোবোটিকস, মঙ্গল গ্রহের রোভার, স্পেস স্টেশন, মহাকাশ অভিযান এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ প্রযুক্তির মতো তুলনামূলকভাবে উন্নত বিষয়।
চূড়ান্ত পর্বের আগে অনলাইনে কয়েকটি ধাপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও অনলাইন পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। অনলাইন বাছাইয়ের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই ঢাকার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক। মহাকাশ বিজ্ঞানের মতো বিষয়কে আনন্দের সঙ্গে, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দিতে পারলে শিশুদের শেখা হয় আরো গভীর ও কার্যকর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এর ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের সভাপতি আরিফুল হাসান বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যেই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য ছোট বয়স থেকেই বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা জরুরি। দিনব্যাপী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শেষে চারটি বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।