বাসস
  ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪৬

এইচআইভি প্রতিরোধে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন : বগুড়ায় বক্তারা

ছবি : বাসস

বগুড়া, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : গত সাত বছরে বগুড়ায় ৯৫ জন ব্যক্তির দেহে এইচআইভি সনাক্ত হয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯ জন। এর মধ্যে গত জুলাই মাসে ১৫ জন এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন।

তবে চিকিৎসক ও বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীলরা বলছেন, সচেতনতাই এইচআইভি রোগের প্রধান প্রতিরোধ ব্যবস্থা। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা।

আজ বুধবার বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব তথ্য উঠে আসে। জেলা সিভিল সার্জন দপ্তরের সহযোগিতায় ঢাকা আহসানিয়া মিশনের বগুড়া কার্যালয় এই পরামর্শ সভার আয়োজন করে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়ে আসছে। সেন্টারটির তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৯৫ জন এইচআইভি সনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৯ জন।

শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেছেন, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে লক্ষণ পেলে আমরা এইচআইভি পরীক্ষা করাই। সেখানে থেকে অনেক পজিটিভ রোগী পেয়েছি। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই ৩০ বছরের মধ্যে।

তাদের আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছি। বর্তমানে সংখ্যা বাড়ছে, এর কারণ এখন মানুষ পরীক্ষা করতে আগ্রহী। তবে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে এই রোগের বিষয়ে।

এ সময় সারাদেশে এইচআইভির পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন ঢাকা আহসানিয়া মিশনের (ডিআইসি) বগুড়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক খোন্দকার রেজাউল করিম। 

২০১০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি হিজড়া, যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করছে। চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় বিনামূল্যে।

খোন্দকার রেজাউল করিম জানালেন, বগুড়ায় সুনির্দিষ্ট ৪ হাজার ৫২ জনের এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৯ জনকে এইচআইভি প্রতিরোধ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ হাজার ৭৯৪ জনকে পরীক্ষা করে ১ জন এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া গেছে। এখন পযর্ন্ত ডিআইসির পরীক্ষায় বগুড়ায় মোট সনাক্ত হয়েছেন ২৫ জন। মারা গেছেন ২ জন।

জেলার চিকিৎসক ও ডিআইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক। নারী-পুরুষের মধ্যে এবং পুরুষে পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এইচআইভি ছড়াতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে শিশুর শরীরেও সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদানের সময় এবং মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য ও বগুড়া জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। 

তিনি বলেছেন, বগুড়ার এইচআইভি রোগের পরিসংখ্যান দেখে যা বুঝতেছি যে এটা এখনই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য সমাজের সকল অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আরও প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে। সচেতনতা ছাড়া এর ভয়াবহতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র একই কথা জানিয়ে বলেছেন, সচেতনতার ওপরে কিছু নেই। বিভিন্ন সেমিনার, প্রশিক্ষণে এই বিষয় নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে। যুব সমাজকে এই কাজে যুক্ত করার প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনকে জানালে আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এসএম নুর-ই-শাদীদ। এ সময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেগম মুস্তারী আকতার জাহান, মেডিকেল অফিসার সাজ্জাদ উল হক, স্কুল হেলথ ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার উম্মে সালমা শারিমন, ফারাহ উলফাতসহ আরও একাধিক চিকিৎসক এবং ডিআইসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিআইসির তথ্যমতে, ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩ জন। মারা গেছে ২ হাজার ৬৬৬ জন।