শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সবসময় জাগ্রত রাখতে হবে এবং দেশ যাতে আর ফ্যাসিবাদের কবলে না পড়ে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছে। মানুষ এখন মুক্তভাবে কথা বলতে পারছে। এই অর্জন ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা করতে হবে।’
আজ বুধবার বিএমইউ’র শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘জুলাই ৩৬: জাতীয়তাবাদের চেতনায় গণতন্ত্রের প্রত্যয়’ শীর্ষক গণতন্ত্র র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-বিএমইউ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-বিএমইউ’র আহ্বায়ক ডা. মুহা. শহিদুল হক রাহাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার ও প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।
অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।
উপাচার্য বিএমইউতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং তাদের সর্বোচ্চমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে বারবার ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। তবে দেশের জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার কারণে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে। জাতীয়তাবাদের বিজয় সুনিশ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ঐক্যবদ্ধ থেকে এ বিজয় ধরে রাখার আহ্বান জানান।
বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এখনো সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি করেছে। এর লক্ষ্য দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। বিএমইউতে চিকিৎসা নিতে আসা কোনো রোগী যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর রাখতে হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ বলেন, সৎ, ন্যায়, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিএমইউতে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মুহা. শহিদুল হক রাহাত সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থেকে ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা এবং ফ্যাসিবাদীরা যাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানান।
মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-বিএমইউ’র সদস্য সচিব ডা. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বিএমইউ ক্যাম্পাসে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
উপ-রেজিস্ট্রার সাবিনা ইয়াসমিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদের দোসররা যাতে প্রকাশ্যে বিচরণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-বিএমইউ’র উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্টারি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।