শিরোনাম

॥ মনসুর আহম্মেদ ॥
রাঙ্গামাটি, ৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : পাহাড়ে ভিয়েতনামী লংগান (লিচু) চাষ করে সফল খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলায় কৃষি উদ্যোক্তা প্রিয়র্দশী চাকমা।
৫ বছর আগে বন্ধুর মাধ্যমে দিনাজপুর থেকে ১২টি লংগান চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে রোপন করে সফল হয়েছেন বলে বাসস’কে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা প্রিয়র্দশী চাকমা।
তিনি জানান, এ বছর তার বাগানে লংগানের প্রচুর ফলন হয়েছে এবং ৫শ’-৬শ’ টাকা ধরে কেজি বিক্রি করছে। সমতলে লংগান ফলে দাম ১হাজার থেকে ১২শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং বাজারের এর উচ্চ মূল্যও রয়েছে বলে জানান প্রিয়দর্শী।
বিদেশি জাতের এই লংগান ফল হলেও দেখতে বাংলাদেশের লিচুর মত এবং স্বাদও লিচুর মত। লংগান ফলে রসালো মাংসের পরিমাণ বেশি। বীজ একেবারে ছোট। লংগান বছরে দু’বার ফলন দেয় জানান প্রিয়দর্শী।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা প্রিয়দর্শী চাকমা ভিয়েতনামী লংগান চাষ সম্পর্কে বাসস’কে আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউব ভিডিও দেখে লংগান চাষ করতে আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং সেই আগ্রহ থেকেই দিনাজপুরে আমার বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করে বিগত ৫বছর আগে আমি ১২টি লংগান চারা নিয়ে এসে পাহাড়ে মাটিতে পরীক্ষামূলক রোপন করি এবং এতে আমি সফলতা পাই।
তিনি আরো জানান, পাহাড়ের মাটি লংগান ফল চাষের জন্য উপযোগী মনে হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে লংগান ফল চাষের পরিধি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই কৃষি উদ্যোক্তা।
প্রিয়দর্শী জানান, কোনো রকম কীটনাশক বা সার ছাড়া পাহাড়ী এলাকায় উচ্চমুল্যের এই লংগান চাষের সফলতা দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেছে স্থানীয় কৃষকরা।
ভবিষ্যতে তার নিজস্ব জমিতে উচ্চ মুল্যের এই লংগান চাষের পরিধি বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান পাহাড়ের এই কৃষি উদ্যোক্তা।
স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা বাসস’কে জানান, কৃষি উদ্যোক্তা প্রিয়দর্শী চাকমার লংগান চাষের সফলতা নিয়ে খাগড়াছড়িতে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষি বিভাগও এ বিষয়ে তাকে সহযোগিতা করতে কাজ করছে। আমরা তার পরীক্ষামুলক লংগান চাষের বাগানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। তার বাগানের ফলনও অনেক ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদেশী জাতের এই লংগান চাষের বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহী করার পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলায় লংগান চাষের পরিধি বাড়ানো গেলে এখানকার কৃষকরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ে নতুন জাতের বিদেশী এই লংগান ফল ব্যাপকভাবে উৎপাদনের অন্যতম উর্বর ভূমি।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন ভিয়েতনামী লংগান (লিচু) চাষ সম্পর্কে বাসস’কে বলেন, লংগান ভিয়েতনামী বিদেশি লিচু জাতীয় ফল।উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন সি ও এন্টিঅক্সাইড থাকার কারণে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। স্থানীয় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং বাজারে এর উচ্চ মূল্যও রয়েছে। তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা প্রিয়দর্শী চাকমার ভিয়েতনামী লংগান চাষ নিয়ে আমরা জেনেছি এবং এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, পাহাড়ে অন্যান্য কৃষি ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি উচ্চ মুল্যের সম্ভাবনাময় এই লংগান চাষের বিষয়ে আমরা স্থানীয় কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বোঝানোর চেষ্টা করবো। পাহাড়ে লংগান চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে পাহাড়ী এলাকা কৃষি ক্ষেত্রে একটি বিরাট সফলতার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাহাড়ে ভিয়েতনামী লংগান চাষের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে পার্বত্য অঞ্চলও হতে পারে বিদেশী জাতের লংগান চাষের জন্য অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় এলাকা।