শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ জুন, ২০২৬ (বাসস): বিচারিক সেবা আরো সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এটুআই প্রোগ্রামের আওতায় উন্নয়ন করা বিভিন্ন জুডিসিয়াল সার্ভিস ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম আইন ও বিচার বিভাগে হস্তান্তরের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৮ থেকে গত রোববার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এক পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ কমিটি গঠন করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিচারিক সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের অনলাইনে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে এটুআই প্রোগ্রামের মাধ্যমে একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে ‘ই-কার্যতালিকা’, ‘মামলা ব্যবস্থাপনা’, ‘বিচার বিভাগীয় বাতায়ন’, ‘উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর’ এবং মোবাইল অ্যাপ ‘আমার আদালত’ সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এছাড়া ‘জজ ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (জেআইএমএস)’, ‘জুডি পে’, ‘ই-অনুলিপি’ এবং ‘আইনজীবী বাতায়ন’ নামের আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বিচারিক কার্যক্রমকে আরো আধুনিক ও গতিশীল করবে।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এটুআই (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির ১০ম সভায় এসব জুডিসিয়াল উদ্যোগ আইন ও বিচার বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (প্রশাসন-২) মো. মাসুম বিল্লাহ।
সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মঈনউদ্দিন কাদির।
কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সহকারী সচিব (বিচার শাখা-৪) মুহাম্মদ আশেকুর রহমান, এটুআই প্রোগ্রামের দু’জন কর্মকর্তা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী প্রোগ্রামার আরাফাত উর রহমান।
কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে এটুআই প্রোগ্রামের আওতায় উন্নয়ন করা বিচারিক সেবা প্ল্যাটফর্মসমূহের কারিগরি, প্রশাসনিক ও কার্যক্রমগত বিষয়সমূহ পর্যালোচনা করে সুষ্ঠুভাবে আইন ও বিচার বিভাগে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিচার বিভাগে ডিজিটাল সেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং নাগরিকরা আরো দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ বিচারিক সেবা লাভ করবেন।
একই সঙ্গে দেশের বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়া আরো বেগবান হবে।