শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে জলবায়ু কূটনীতি সুদৃঢ় করার পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মালদ্বীপের স্বাধীনতার ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশটির হুলহুমালে সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উদযাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরেন।
আজ দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী শরীফসহ মালদ্বীপ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় ক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ উভয় দেশই একই ধরনের চরম ঝুঁকির সম্মুখীন। এই বৈশ্বিক সংকট এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, তাই জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
হাইকমিশনার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু অভিযোজন, উপকূলীয় সুরক্ষা, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ও সফল অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় মালদ্বীপের সঙ্গে নীতিগত ও কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ সরকারের উচ্চাভিলাষী ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রি প্রজেক্ট’ -এর প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে হাইকমিশনার বলেন, মালদ্বীপের এই প্রকল্প এবং বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় সবুজায়ন কর্মসূচিÑ যার আওতায় প্রায় ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা উভয় দেশের পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণের অভিন্ন দূরদর্শিতার প্রমাণ।
মালদ্বীপের এই ৫ মিলিয়ন চারা রোপণ প্রকল্প সফল করতে বাংলাদেশ তাদের অভিজ্ঞতা, সর্বোত্তম অনুশীলন এবং কারিগরি জ্ঞান বিনিময় করবে।
অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন, পরিবেশ ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা সরাসরি দুই দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতে জলবায়ু গবেষণা, পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি, যৌথ বৃক্ষরোপণ অভিযান, সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু ফোরামগুলোতে দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।