বাসস
  ১৩ জুন ২০২৬, ১৮:২৭

ঢাকায় রুশ দূতাবাসে রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপিত

ছবি : রাশিয়ান অ্যাম্বাসি

ঢাকা, ১৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকায় রুশ দূতাবাসে রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ও রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি, শিক্ষা ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততায় ক্রমবর্ধমান সহযোগিতাও তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় রাশিয়ার দূতাবাস এক সংবর্ধনার আয়োজন করে। যেখানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন ২০২৬ সালের প্রথমার্ধকে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের জন্য বিশেষভাবে ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সাম্প্রতিক কয়েকটি মাইলফলক তুলে ধরেন।

তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক মস্কো সফর ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সেন্টিউরিন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে রাশিয়া ও বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিল্প, শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করেছে।

সপ্তাহের শুরুতে ড. খলিলুরের মস্কো সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সফর সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করবে ও আরও যৌথ উদ্যোগের পথকে সুগম করবে।

রুশ কূটনীতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুরের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতিসংঘে (ইউএন) বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করে রাশিয়া।

জ্বালানি খাতে অগ্রগতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সেন্টিউরিন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপকে বাংলাদেশী ও রুশ বিশেষজ্ঞদের বহু বছরের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে একটি বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেন।

রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বলেন, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনাটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা যে বাস্তব ফল বয়ে আনে, প্রকল্পটি তার প্রকৃত প্রমাণ।

রুশ দূত উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় যেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে এবং বাংলাদেশী আবেদনকারীদের জন্য মস্কো বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব স্নাতক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশিয়ার সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের আলাবুগা ফোক সং অ্যান্ড ড্যান্স এনসেম্বলের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয়।

দলটি ঐতিহ্যবাহী ও সমকালীন গান, বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা এবং লোকনৃত্য উপস্থাপন করে, যা অতিথিদের রাশিয়ার বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠীগুলোর একটি, তাতার জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির এক ঝলক দেখার সুযোগ করে দেয়।