বাসস
  ১২ জুন ২০২৬, ১৬:১৫

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর ডিএনসিসির

ঢাকা, ১২ জুন, ২০২৬ (বাসস): পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিবাকালীন শিফটের পাশাপাশি রাত্রিকালীন শিফটেও কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ডিএনসিসির ২৬টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বেগবান করতে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রচলিত ভ্যান সার্ভিসকে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, প্রধান সড়কসমূহে পড়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য কিউআরটি ও মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোথাও যাতে বর্জ্যের স্তুপ জমে না থাকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সকল যান-যন্ত্রপাতির শতভাগ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক কম্প্যাক্টর ট্রাক, হুক-লিফট ট্রাকসহ অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যানবাহন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, আধুনিক ও কার্যকর হবে বলে আশা করছে ডিএনসিসি।

বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সুষ্ঠুভাবে সংগ্রহের লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ডিএনসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৫০০টি প্লাস্টিক বিন বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টি সবুজ এবং ২৫০টি হলুদ রঙের বিন রয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার পিস পলিব্যাগও বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন সলিড ওয়েস্ট ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ডব্লিউটিই পাওয়ার প্ল্যান্ট নর্থ ঢাকা প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে ওয়েস্ট সাপ্লাই এগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড ইউজ এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধান ড্রেনসমূহ পরিষ্কার করা হবে এবং নির্বাচিত খালগুলো থেকে ভাসমান বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে। দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো বর্জ্যমুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য।

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য উল্লেখ করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ নির্ধারিত স্থান ছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলব না। জনগণের সহযোগিতায় ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’