শিরোনাম

ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬ (বাসস) : দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ ২.৪৯ মেগাওয়াট পিক (এমডব্লিউপি) ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে এবং কমছে সরকারি ব্যয়।
আজ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোলার সিস্টেমটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে সার্ভিস এরিয়ার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং রাত বা মেঘলা দিনে গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুতের সঙ্গে এর সমন্বয় করা হচ্ছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক বিবৃতিতে বলেন, 'পদ্মা সেতুর মতো একটি জাতীয় স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সফল প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বিদ্যুৎ ব্যয় কমাচ্ছে না, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের গ্রিন এনার্জি রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সেতু কর্তৃপক্ষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে।'
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং পদ্মা সেতুর এ উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টারই অংশ।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সার্ভিস এরিয়া-২-এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে চলতি জুন মাসে কোনো বিদ্যুৎ বিল আসেনি। শুধু ডিমান্ড চার্জ বাবদ ৭৫ হাজার ৭১৪ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ গত মে মাসে এ এলাকার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৫ লাখ ২১ হাজার ৬৪ টাকা।
এছাড়া, মে মাসে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ৫৪ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। একই সময়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৪ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ। ফলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নেট সাশ্রয় হয়েছে ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ।
বর্তমানে পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১, ২ ও ৩-এ মোট ৬ দশমিক ০৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিস এরিয়া-২-এ নেট মিটারিং কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সার্ভিস এরিয়া-১ ও ৩-এ একই কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।