বাসস
  ০৯ জুন ২০২৬, ১৮:২৪

৩০ জুনের মধ্যে ডিএসসিসি’র বকেয়া পৌরকর পরিশোধে ১৫ শতাংশ সারচার্জ মওকুফ

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৯ জুন, ২০২৬ (বাসস): আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া পৌরকর পরিশোধে ১৫ শতাংশ সারচার্জ মওকুফ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ।

ডিএসসিসি'র নিজস্ব মালিকানাধীন মার্কেট কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, ট্রেড লাইসেন্স এবং সার্বিক নগর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেয়া হয়।

মঙ্গলবার নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং করদাতাদের বকেয়া পৌরকর পরিশোধে উৎসাহিত করতে বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় বলা হয়, আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে বকেয়া পৌরকর পরিশোধ করলে আরোপিত ১৫ শতাংশ সারচার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। ফলে করদাতারা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই তাদের বকেয়া কর পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

মতবিনিময় সভায় মার্কেট প্রতিনিধিরা ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা, মার্কেটের সামনে হকারদের অবৈধ অবস্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অবৈধ দখলসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রশাসক তাদের বক্তব্য মনোযোগসহ শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ উন্নয়ন, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে নাগরিক সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, 'সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের কর ও ভাড়ার অর্থেই পরিচালিত হয়। রাজস্ব ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কর ও ভাড়া পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে।'

অনিয়ম ও অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। আপনারা নিয়ম মেনে সহযোগিতা করুন, সিটি কর্পোরেশনও প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। একজনকে টাকা দিয়ে ব্যবসা করলেই তা বৈধ হয়ে যায় না; বৈধতার জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম অনুসরণ করতেই হবে।'

সভায় বাজার ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হলে নোটিশ ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়।

ট্রেড লাইসেন্স বিষয়ে জানানো হয়, অনেক মার্কেটে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়ীর বৈধ লাইসেন্স নেই। এ অবস্থায় দ্রুত লাইসেন্স হালনাগাদ না করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও বকেয়া আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বড় সাইনবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়।

মার্কেটের প্যাসেজ, প্রবেশপথ ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে কোনো ধরনের দোকান বা স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বউদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করলে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।

এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএসসিসি এলাকার সব রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক র‌্যাম্প ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভা শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক নগরবাসী, ব্যবসায়ী ও করদাতাদের সারচার্জ মওকুফের বিশেষ সুযোগ গ্রহণ করে বকেয়া পৌরকর পরিশোধের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে করদাতারা যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন, তেমনি নগরের উন্নয়ন কর্মকা-ও আরও গতিশীল হবে।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বাজার ও মার্কেট কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।