বাসস
  ০৯ জুন ২০২৬, ১৭:০৬

গ্রাহকের অজান্তে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার: সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

ঢাকা, ৯ জুন, ২০২৬ (বাসস): গ্রাহকের অজান্তে ক্রেডিট কার্ড নিজের কাছে রেখে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম সারোয়ার হোসেন (৪০)।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে ডিএমপির গুলশান থানাধীন ৩২ নম্বর রোডস্থ কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) এর একটি অভিযানিক দল।

সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, ২০১৭ সালে সারোয়ার হোসেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তখন এক গ্রাহক তার নামে ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করেন। 

পরে কার্ডটির প্রয়োজন না থাকায় গ্রাহক সেটি ব্যাংকে ফেরত দিলেও সারোয়ার কার্ডটি জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।

তিনি ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখেন, যাতে ওটিপিসহ সব তথ্য তার কাছেই পৌঁছায়। পরে ওই কার্ড ব্যবহার করে তিনি আর্থিক লেনদেন করেন।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার নামে ২০১৭ সালে একটি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অথচ তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না এবং কোনও ঋণও গ্রহণ করেননি।

পরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নজরে আসে।

পরবর্তীতে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি উদ্‌ঘাটিত হলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় এ বছর ১৫ এপ্রিল দ-বিধির ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর অজ্ঞাতে ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ওই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকার লেনদেন করা হয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুদসহ অবশিষ্ট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিআইডি জানিয়েছে, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় গ্রাহকের প্রতি অর্পিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করে সারোয়ার হোসেন এ জালিয়াতি করেন। এমনকি ২০১৯ সালে চাকরি ছাড়ার পরও তিনি ওই কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান।

গ্রেফতারকৃতকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন।