শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম নগরীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ বাড়াতে প্রতি মাসে সভা করে রাজস্ব বিভাগের প্রতিটি সার্কেলের অগ্রগতি প্রতিবেদন যাচাই করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার নগরীর লালদিঘীস্থ চসিক পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন মেয়র। এ সময় তিনি চসিকের রাজস্ব বিভাগের প্রতিটি সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে রাজস্ব আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেন।
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আদায় এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। এ অবস্থা পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি মাসে রাজস্ব বিভাগের সাথে সভা করব। প্রতি মাসে বিগত মাসের রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। যেসব সার্কেলে আদায় কম, সেগুলোতে আদায় কম হওয়ার জন্য কারো দায় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেও চসিকের বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে। এসব বকেয়া আদায় না হলে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে না।
এ সময় রাজস্ব কর্মকর্তারা তাদের নিজেদের সার্কেলের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান তুলে ধরেন। কিছু সার্কেলে কর আদায়কারী না থাকায় নতুন স্থাপনাগুলোতে কর আদায় ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা। এছাড়া নগরীতে যেসব স্থাপনা রাজস্ব মূল্যায়নের আওতায় আসেনি, সেগুলোর হোল্ডিং ট্যাক্সের এসেসমেন্টের পরামর্শ উঠে আসে সভায়।
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব এখনো আদায়ের বাইরে রয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি, কর ফাঁকির প্রবণতা এবং রাজস্ব বিভাগের লজিস্টিক ও জনবল সংকটকে এই অবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানসহ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন।