শিরোনাম

ঢাকা, ৮ জুন, ২০২৬ (বাসস): জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করা সুজনের সহায়তায় পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি জুলাইযোদ্ধা সুজনের পারিবারিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।
সোমবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জুলাইযোদ্ধা সুজনের অসহায়ত্বের করুণ বর্ণনা শুনে জেলা প্রশাসক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
সুজন জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
সুজনের পরিবারে রয়েছে একাধিক সংকট। তার বাবা স্ট্রোক করে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। বিবাহবিচ্ছেদের পর তার বোন এখন সুজনদের সাথেই থাকছেন। অন্যদিকে সুজনের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় চিকিৎসা ও সংসার ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার আবেদন জানান তিনি।
সুজনের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
ফরিদা খানম বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব রয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। সুজনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনও মানবিক দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুজন বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর জীবনটা যেন একেবারে থমকে গেছে। বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, বোনের সংসার ভেঙে গেছে, আমার স্ত্রীও সন্তানসম্ভবা। পরিবারের দিকে তাকালে নিজেকে খুব অসহায় লাগে।
তিনি বলেন, অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, ভবিষ্যতে কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। এই সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।
এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।