বাসস
  ০৭ জুন ২০২৬, ২৩:০৪

কেআইবি ও অ্যাব নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা

ঢাকা, ৭ জুন, ২০২৬ (বাসস): কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) ও এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আজ রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অ্যাব নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার বলেন, সম্প্রতি অ্যাবের সদস্যসচিবসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কেআইবির তহবিল থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা আদায়ের একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কেআইবি ভবনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল কৃষিবিদদের তত্ত্বাবধানেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে কাজের বকেয়া বিল পরিশোধের অংশ হিসেবে সম্পূর্ণ বৈধ ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ ঠিকাদার ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। এখানে কোনো ধরনের জবরদস্তি বা অনৈতিক অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেনি।

অ্যাবের সদস্যসচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন, একটি অসাধু চক্র কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে একটি ভিডিও বক্তব্য ধারণ করে। পরবর্তীতে ওই ভিডিওর নির্বাচিত অংশ বা ‘কাটপিস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়।

তিনি বলেন, পরে দিলিপ কুমার সরকার নিজেই আরেকটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করেন যে, তাকে কোনো ভয়ভীতি দেখানো হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ কেআইবি ভবনের সংস্কারকাজের বকেয়া বিল হিসেবেই পরিশোধ করা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে দিলিপ কুমার সরকার বলেন, আমার ভিডিওর একটি অংশ বিশেষভাবে কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমি আইন মেনেই সব কাজ করেছি।

ড. কামরুজ্জামান কায়সার বলেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের প্রবীণ ও সম্মানিত কৃষিবিদদের উদ্যোগে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। ওই সময়ে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে স্পষ্ট হয় যে, পুরো বিষয়টি মূলত ভুল বোঝাবুঝি ও তথ্যের অপব্যাখ্যার ফল।

তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়ে যায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আর কোনো বিরোধ অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু নিষ্পত্তিকৃত ঘটনাকে কিন্তু দীর্ঘদিন পর নতুন করে সামনে এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে। 

অ্যাবের আহ্বায়ক বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার দেশের কৃষিবিদ সমাজ, তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কেআইবি এবং বৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন অ্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে অ্যাবের ছয় সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে একজন সদস্য সংগঠনের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিএনপির উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অসত্য তথ্য প্রচারের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাব নেতারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অ্যাবের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম শফিক।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাবের সদস্য শাহাদত হোসেন চঞ্চল, প্রফেসর ড. জামশেদ আলম, নুরুন্নবী শ্যামল উপস্থিত ছিলেন।