বাসস
  ০৭ জুন ২০২৬, ২০:৪৫

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের উদ্যোগে ৬০ বাংলাদেশি তরুণের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

ছবি: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস

ঢাকা, ৭ জুন, ২০২৬ (বাসস): ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ও নেতৃত্বভিত্তিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে চার দিনব্যাপী এক কর্মসূচির মাধ্যমে ৬০ জন বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীকে যোগাযোগ, নেতৃত্ব এবং দর-কষাকষি (নেগোশিয়েশন) দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।

আজ গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল: আমেরিকান এক্সেলেন্স ইন নেগোশিয়েশন স্কিলস’ শীর্ষক কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন অংশ নেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের এমন এক নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি নেতা হিসেবে অভিহিত করেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষি ও নেতৃত্বগুণে দক্ষ হয়ে উঠছে।

মার্কিন ইংরেজি ভাষা বিশেষজ্ঞ জোয়ান মুনিস্টেরির সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ‘অ্যাকসেস ইংলিশ’ কর্মসূচির ৬০ জন সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বই ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’-এর নীতিমালা ছাড়াও দর-কষাকষি, যোগাযোগ ও নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ে প্রচলিত মার্কিন পদ্ধতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, তারা বিশ্বের অন্যতম সফল চুক্তি-সম্পাদনকারীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ‘দর-কষাকষির ওপর একটি মাস্টারক্লাস’ গ্রহণ করেছেন।

তিনি ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়কার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও দর-কষাকষির ধরণ বোঝার জন্য তিনি এক বিদেশি কূটনীতিককে ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ বইটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমি দেখেছি তিনি বইটিতে বর্ণিত নীতিগুলোই অনুসরণ করছিলেন।’ তিনি এ মন্তব্য করেন ওই দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যোগাযোগের প্রসঙ্গ টেনে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রশিক্ষণে শেখানো কৌশলগুলো দর-কষাকষির ক্ষেত্রে মার্কিন পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে প্রস্তুতি, স্পষ্ট যোগাযোগ, কৌশলগত চিন্তা, পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব এবং বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি।

তিনি বলেন, ‘সফল দর-কষাকষি শুধু চুক্তি সম্পাদনের বিষয় নয়, যদিও সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি আস্থা-ভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, সমস্যার সমাধান করা এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার সঙ্গেও জড়িত।’

ক্রিস্টেনসেন বলেন, বিদেশে পরিচালিত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো এমন আত্মবিশ্বাসী নেতাদের মূল্য দেয়, যারা আমেরিকানদের যোগাযোগ ও দর-কষাকষির ধরন সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, ‘যারা বুঝতে পারে আমরা আমেরিকানরা কীভাবে দর-কষাকষি করি, তাদের সঙ্গে কাজ করা কিংবা দর-কষাকষি করা সত্যিই সহায়ক।’

রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি প্রশিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং কোর্সে অর্জিত দক্ষতাগুলো নিজেদের কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে প্রয়োগ ও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘সফল দর-কষাকষি সম্পর্কে যে উত্তম চর্চাগুলো আপনারা শিখেছেন, সেগুলো অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেবেন বলে আমি আশা করি।’

মার্কিন দূতাবাস জানায়, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।