শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করতে সরঞ্জামের ওপর কর ১০ বছরের জন্য মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
আজ শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে গ্রিন লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য উৎস : চাই বাজেটের নীতিগত পরিবর্তন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সৌর ও বায়ুশক্তির বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ করহার, নীতিগত জটিলতা ও অর্থায়নের অভাবে এই খাত পিছিয়ে পড়ছে।
উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
বক্তারা জানান, বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর ২৭ থেকে ৬১ শতাংশ পর্যন্ত কর ও শুল্ক আরোপ থাকায় খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। অথচ দেশে সৌর ও বায়ুশক্তির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বিদ্যমান নীতিগত সুবিধা জীবাশ্ম জ্বালানির দিকেই বেশি যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তারা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নীতিগত সহায়তা বাড়ানো না হলে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর কর ১০ বছরের জন্য সর্বোচ্চ ১ শতাংশে নামিয়ে আনা, ২৫ হাজার কোটি টাকার আবর্তনশীল তহবিল গঠন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য ভর্তুকি এবং কর্পোরেট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অবহেলা করা হলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হবে। তাই এখনই নীতিগত পরিবর্তন জরুরি।
বক্তাদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ালে জ্বালানি আমদানি কমবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও টেকসই হবে।