বাসস
  ০৪ জুন ২০২৬, ১৯:৩২

বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকারে রাখার দাবি 

ছবি : বাসস

রাজশাহী, ৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারে রাখার দাবি জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী এবং এ খাতের সংগঠকরা।

বৃহস্পতিবার নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ক্লিন’, ‘পরিবর্তন’ ও ‘বিডাব্লিউজিইডি’ আয়োজিত  ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ শীর্ষক এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু-বান্ধব ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার জোর দাবি জানানো হয় ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফেড)’ রাজশাহীর সভাপতি কল্পনা রায়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান, ‘পরিবর্তন’-এর পরিচালক রাশেদ রিপন এবং ক্যাম্পেইন অ্যাসোসিয়েট রনি রায়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ তথা রাজশাহী অঞ্চল সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্থান। এখানে সরকারি ভর্তুকি ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সোলার সিস্টেম স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। বড় পরিসরের প্রকল্পের বাইরেও ‘এগ্রিভোল্টাইক’ পদ্ধতিতে সবজি ক্ষেতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে একই সঙ্গে চাষাবাদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। 

তারা বলেন, রাজশাহীর মাছ চাষের জলাশয়গুলোতে ভাসমান সৌর প্যানেল বা ‘ফ্লোটিং সোলার প্যানেল’ স্থাপন করা যেতে পারে। বাসা-বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ‘রুফটপ প্যানেল’ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, তারা একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজশাহীর ফলিয়া বিল এলাকায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই নেসকোর কাছে বিক্রি করা হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎব্যবস্থা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি ও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলছে। 

তারা বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনও অত্যন্ত কম। অথচ রুফটপ সোলার, সৌর সেচ, এগ্রিভোল্টাইকস, ফ্লোটাভোল্টাইকস এবং কমিউনিটি-মালিকানাধীন জ্বালানি ব্যবস্থার মতো উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, নতুন করে কয়লা, তেল ও এলএনজিনির্ভর প্রকল্পে বিনিয়োগ সীমিত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন, নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশকর্মী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।