শিরোনাম

ঢাকা, ৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শ্রমিক-কর্মীর বড় অংশই অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তার বাইরে রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারের চালু করা ‘প্রগতি স্কিম’একটি কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান এ তথ্য জানান।
বর্তমানে দেশের বৃহৎ বেসরকারি খাতে নিয়োজিত কর্মকর্তাগণকে সুসংগঠিত অবসর সুবিধা দিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ‘বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন’- শীর্ষক অংশের ‘পেনশন ফান্ড গঠন’ বিষয়ে বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি পেনশন ফান্ড গঠনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে।
এই নীতিগত অবস্থানের আলোকে তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ‘প্রগতি স্কিম’- অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করার বিষয় নিয়ে আজ সকালে সচিবালয়স্থ অর্থ ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আজ এখানে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সুরাতুজ্জামান। সভাটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আয়েশা হক। সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
ড. মো. সুরাতুজ্জামান আরও জানান, স্কিমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।
প্রগতি স্কিমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের ৫০:৫০ চাঁদা ব্যবস্থার পাশাপাশি আজীবন মাসিক পেনশন, আয়কর রেয়াত, করমুক্ত পেনশন এবং রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, সরকারের অধীনে সর্বজনীন পেনশন স্কিম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর বাস্তবায়ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল তফসিলি ব্যাংক তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করবে। পাশাপাশি শাখাগুলোতে পৃথক ডেস্ক স্থাপন, প্রচারণা জোরদার এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে স্কিম বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।