শিরোনাম

ঢাকা, ১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (এনআইএমসি) যৌথ উদ্যোগে আজ সোমবার এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল জলিল, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জাভেদ ইকবাল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শাহনাজ বেগম ও মো. শরিফুল কাদের এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান।
এছাড়া ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভার সূচনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর ভূমিকার ওপর একটি জীবনালেখ্য উপস্থাপন করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পারভীন সুলতানা রাব্বী।
বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান, রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং গণমাধ্যমের বিকাশে তাঁর ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং দেশের রেমিট্যান্স খাতের বিকাশের ভিত্তি রচিত হয়।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়েই বাংলাদেশ একটি কার্যকর ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে শুরু করে। তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশ বেতারের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এক সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা নেতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। দেশ গঠনে তাঁর গৃহীত উদ্যোগসমূহ আজও উন্নয়ন অভিযাত্রায় প্রেরণা জোগায়।
সভাপতির বক্তব্যে মুহম্মদ হিরুজ্জামান বলেন, দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে জিয়াউর রহমান যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।