শিরোনাম

ঢাকা, ২০ মে, ২০২৬ (বাসস) : প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও স্থানীয় জনগণের সেবা সহজলভ্য করতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘মোকামতলা’ উপজেলা এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখার অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ খালেদ হাসান স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জন দাবি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিস্তার ও স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন এ দুটি উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে নতুন উপজেলার প্রশাসনিক সীমানা, অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন ও কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বগুড়ার বৃহৎ ও জনবহুল শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে নতুন ‘মোকামতলা’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে শিবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ আলাদা উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বিশেষ করে, দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উপজেলা সদর পর্যন্ত যেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে নানা ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছিল।
স্থানীয়দের মতে, নতুন উপজেলা বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নেও গতি আসবে।
মোকামতলা অঞ্চলটি বগুড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় নতুন উপজেলা হিসেবে এর প্রশাসনিক গুরুত্বও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বহু বছর ধরেই এলাকাটিকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন উপজেলা গঠনের ফলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ আরও শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় জনগণ দ্রুত সরকারি সেবা পাবে।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন উপজেলা গঠনের পর প্রশাসনিক কাঠামো ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, থানা, ভূমি অফিস ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ প্রয়োজনীয় সরকারি দপ্তর স্থাপনের কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে উপজেলা বৃদ্ধি করা গেলে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপর চাপ কমবে।
তবে নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল নিয়োগ ও বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেও তারা মনে করছেন।