বাসস
  ১৮ মে ২০২৬, ২৩:২২
আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০০:৪২

সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে : প্রতিমন্ত্রী

আজ রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে এডিপি সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ (বাসস) : ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, কাদা ছুড়াছুড়ি বা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করে উন্নয়ন হয় না। আগের দিনের হিসাব এখানে টানলে হবে না, প্রকৃত উন্নয়ন সবাইকে একসাথে নিয়ে করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, সরকারের বরাদ্দ করা অর্থে গৃহীত সকল কাজের মধ্যে জবাবদিহিতা থাকতে হবে। শুধু টন হিসেবে খাদ্যশস্য বা লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেই উন্নয়ন হয় না, সমষ্টিগতভাবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সকলকে নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

আজ সোমবার বিকেলে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত  সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর স্পিরিট ও স্পিড বুঝে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি ১০০ মাইল বেগে থাকেন আর আমরা যদি মাইনাস ১০ মাইলে থাকি, তাহলে শুধু আমারই যে ক্ষতি হবে তা নয়; সামগ্রিকভাবে এখানে যারা উপস্থিত আছেন আপনাদের সবারই ক্ষতি হবে। কারণ প্রতিটি বিষয় কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডই নয়; তিন পার্বত্য জেলা পরিষদেরও সমান ভূমিকা থাকতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মধ্যে অবশ্যই স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকতে হবে।

মীর হেলাল আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে শুধু কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে গার্ডার ব্রিজ, কালভার্ট আর সামাজিক সেবার নামে টনের পর টন  খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা দিলেই মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। এখন প্রয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রকৃত জীবন-মান উন্নয়ন, তাদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার কাজে উৎসাহিত করার মতো প্রকল্প নেওয়া। পুরাতন রীতিনীতি বাদ দিয়ে মানুষের টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

সভায় এডিপিভুক্ত প্রকল্প কর্মসূচি সার্বিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যার মধ্যে জিওবি খাতে রয়েছে ৭৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং পিএ খাতের বরাদ্দ ১৩২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বর্তমান অর্থবছরে এডিপিভুক্ত ৮টি প্রকল্প এবং উন্নয়ন সহায়তায় ৩টি অনুমোদিত রয়েছে। সভায় জানানো হয়, এডিপিভুক্ত প্রকল্প ও উন্নয়ন সহায়তার খাতে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অর্থ ছাড় করা হয়েছে ৪১০ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪৭.০২ শতাংশ। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ব্যয়ের অগ্রগতি ৩৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯.৪০ শতাংশ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, যুগ্ম সচিব অতুল সরকার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সালেহ আহমেদ, তিন পার্বত্য জেলার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।