বাসস
  ১৭ মে ২০২৬, ১৮:০২

জনদুর্ভোগ লাঘবে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চালু হচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ

ঢাকা, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানী ঢাকা ও ঢাকা জেলার অধীন এলাকাসমূহের জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে এবং সরকারি সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে ঢাকার নবাগত জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে চালু হতে যাচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ। 

আগামী সপ্তাহে অ্যাপটি চালু করা হবে বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে আজ রবিবার নিশ্চিত করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী সপ্তাহে চালু হতে যাওয়া অ্যাপটিকে নাগরিক সেবার নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা জেলার যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো নাগরিক হ্যালো ডিসি অ্যাপ এ দেয়া মোবাইল নাম্বারে ফোন করে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, হ্যালো ডিসি অ্যাপে দেয়া মোবাইল নাম্বার রিসিভ করার জন্য সকাল ৯ টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত একজন অফিসার নিযুক্ত থাকবে। যিনি ফোন কল রিসিভ করে মানুষের সমস্যা গুলো লিপিবদ্ধ করবেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকার ডিসি ফরিদা খানম বলেন, জনগণের ফোনে পাওয়া অভিযোগ প্রতিকারের বিষয় যদি জেলা প্রশাসনের কিছুই করার না থাকে তবে অভিযোগকারীকে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, সাভার অথবা দোহার নবাবগঞ্জ থেকে অথবা কেরানীগঞ্জ থেকেও কোন সেবা প্রত্যাশীকে কষ্ট করে ডিসি অফিসে আসতে হবে না। ডিসি অ্যাপের মধ্যে থাকা মোবাইল নাম্বারে ফোন করে সেবার বিষয় জানালেই জেলা প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন সেবা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে এই অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে সরকারি অফিসে ছোটখাটো কাজের জন্যও মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, নানা দপ্তরে ঘুরতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।

এসব সমস্যা কমিয়ে আনতেই প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নাগরিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা।

একজন সাধারণ নাগরিক ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও সেবা পেতে পারবেন।

অভিযোগ দাখিল, জরুরি তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন সনদ সংক্রান্ত নির্দেশনা, ভূমি ও প্রশাসনিক তথ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির খোঁজ-খবর, এমনকি স্থানীয় সমস্যার বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগও থাকবে এই অ্যাপে। ফলে জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যকার দূরত্ব অনেকটাই কমে আসবে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সরকারি সেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশও সেই ধারার বাইরে নয়।

এর আগে বিভিন্ন সরকারি সেবা অনলাইনে চালু হলেও সব সেবা এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যেত না।

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতে পারে। এতে একদিকে যেমন সেবার গতি বাড়বে, অন্যদিকে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে।

কারণ, নাগরিকের অভিযোগ বা আবেদন সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাবে এবং তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

ঢাকায় অ্যাপ চালুর বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, ‘হ্যালো ডিসি অ্যাপ’ সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করবে।

কারণ এ অ্যাপ চালুর পর থেকে ঢাকা জেলার দূর দূরান্তের বাসিন্দারা ঘরে বসে যেকোনো পরামর্শ ও অভিযোগ জানাতে পারবেন। এ জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি পরামর্শ ও অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ করবেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে সমাধানের জন্য পাঠাবেন।

তরুণ প্রজন্ম ও প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, সরকারি সেবা পেতে এখন আর অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

সকল মানুষ সমানভাবে তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সময় ও অর্থ, দুটোই সাশ্রয় হবে।

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু হলে প্রশাসনিক সেবায় দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

কারণ, অনেক ক্ষেত্রে দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে মানুষ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে। অনলাইনভিত্তিক সরাসরি সেবা চালু হলে এসব অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।

নাগরিকরা নিজেরাই আবেদন করতে পারবেন এবং তাদের আবেদনের অবস্থা মোবাইল থেকেই জানতে পারবেন।

‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবায় নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং জনগণের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছ, দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি মডেল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।