শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬(বাসস): অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধে তামাক নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আজ বুধবার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে তামাক কর বৃদ্ধি: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে এ দাবি জানান তারা।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।
মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ ৩৫.৩ শতাংশ। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
সেমিনারে প্রস্তাব করা হয়, নি¤œ ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য নূন্যতম ১০০ টাকা নির্ধারণ করা। পাশাপাশি উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে প্যাকেটপ্রতি ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়।
বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, বিদ্যমান কর কাঠামোর কারণে ব্যবহারকারীরা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে সরে গিয়ে ধূমপান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে তামাক ব্যবহার উলে¬খযোগ্যভাবে কমবে এবং তরুণদের মধ্যে ধূমপান শুরু করার প্রবণতা হ্রাস পাবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই অর্থায়নের জন্য একটি কার্যকর নীতি। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ত্যাগে উদ্বুদ্ধ হবে বলেও জানান তিনি।
ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর মহাসচিব ডা. মো. জাহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তামাকের মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি)-এর মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান বলেন, বর্তমান সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলতি অর্থবছরে তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের বিষয়ে এনটিসিসি কাজ করছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক মো. ইউনুছুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিএমইউ জার্নালের নির্বাহী সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এম মোস্তফা জামান, অর্থনীতিবিদ তাইফুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।