বাসস
  ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৫

বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারিত্বে চিকিৎসা পর্যটনে গতি আসবে

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের রিদম গ্রুপ এবং ভারতের মণিপাল হসপিটাল আজ একটি চুক্তি সই করেছে, যার মাধ্যমে চিকিৎসা পর্যটন সহজতর হবে এবং বাংলাদেশি রোগীরা ভারতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে আরও সহজ সুযোগ পাবেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তি সই হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতে বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা।

রিদম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগ হোসেন এবং মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজেসের গ্রুপ কনসালট্যান্ট জিথু জোস নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে রিদম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবির হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ভার্মা বলেন, এ চুক্তি বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকেন্দ্রিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার প্রতিফলন এবং এটি স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সহজ করবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই দেশের বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বৃদ্ধিকেও তিনি স্বাগত জানান।

মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজেসের গ্রুপ সিওও কার্তিক রাজাগোপাল বলেন, এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগীরা ঝামেলামুক্তভাবে রোগীকেন্দ্রিক বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

রিদম গ্রুপের পক্ষে আবির হোসেন বলেন, এ সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশি রোগীরা নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা, সহজ ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং ভারতে উন্নত চিকিৎসাসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার পাবেন।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি রোগীদের ভারতে চিকিৎসার জন্য পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে চিকিৎসা পরামর্শ, হাসপাতাল নির্বাচন এবং ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এই উদ্যোগে রিদম গ্রুপের ভ্রমণ, বিমান ও লজিস্টিকস খাতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মণিপাল হাসপাতালের ৪৯টি হাসপাতাল, ১২ হাজার ৬০০-এর বেশি শয্যা এবং ১১ হাজারের বেশি চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক যুক্ত হবে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় মতামত গ্রহণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা বেছে নিতে বিশেষ পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

রোগীরা আবাসনের ব্যবস্থা এবং এয়ারলাইন্স অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিশেষ বিমান ভাড়াসহ সমন্বিত ভ্রমণ সহায়তাও পাবেন।

দুই পক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ডিজিটাল ভিডিও পরামর্শ প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে, যাতে তারা ভারতে যাওয়ার আগেই দূর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি বহুমুখী বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও রয়েছে, যাতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়।