বাসস
  ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩৫

ব্যবহার কমাতে ও রাজস্ব বাড়াতে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা প্রজ্ঞা ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ছবি : প্রজ্ঞা

ঢাকা, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা হ্রাস, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে তামাক বিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা ও আত্মা।

এই প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়িত হলে তামাকের ব্যবহার ও অকাল মৃত্যু কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়বে বলেও জানায় সংগঠন দু’টি।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠন দু’টি। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। 

সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে চার টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, বর্তমানে সিগারেট ব্যবহারকারীর অধিকাংশই নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের ভোক্তা। এই দুই স্তর একত্রিত করে সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা বিদ্যমান চারটি থেকে তিনটিতে নামিয়ে আনলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী ধূমপানে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, সিগারেট করকাঠামোয় প্রস্তাবিত সংষ্কার বাস্তবায়ন করা হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বধির্ত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপ মোকাবেলার সুযোগ তৈরি হবে।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন দাম ও করহার যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ আরোপের প্রস্তাব করা হয়। জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রাম ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়। একইসাথে সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তামাকবিরোধীদের কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে তামাক খাত থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
 
আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি’র প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব, ডেইলি টাইমস অফ বাংলাদেশের হেড অফ অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রজ্ঞা’র হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।