শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে।
এবারের স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দীর্ঘ আঠারো বছর পর আয়োজিত জাতীয় প্যারেডে প্রথমবারের মতো বিজিবির আধুনিক যান্ত্রিক বহরের অংশগ্রহণ, যা বাহিনীর সক্ষমতার এক অনন্য প্রদর্শনী হিসেবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
আজ সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেডে বিজিবির একটি সুসজ্জিত কনটিনজেন্ট অংশগ্রহণ করে।
সম্মিলিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানানো হয়। প্যারেডে এই প্রথমবারের মতো বিজিবির যান্ত্রিক বহর অংশগ্রহণ করে, যেখানে দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর আধুনিক সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
প্রদর্শনীতে বিজিবির অত্যাধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জামাদি, বিশেষ করে বিজিবি এয়ার উইংয়ের তত্ত্বাবধানে হেলিকপ্টার ফ্লাইপাস্ট, সীমান্তে শত্রুর যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এন্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন্স (এটিজিডব্লিউ) অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) ও রায়োট কন্ট্রোল ভেহিকেল (আরসিভি), যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদানে সক্ষম বিজিবির কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) ও র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি), সীমান্তের যেকোনো দুর্গম অঞ্চলে টহল প্রদানে সক্ষম অল টেরেইন ভেহিকল (এটিভি) এবং বিজিবি ক-৯ ইউনিটের প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াডের দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। এই অংশগ্রহণ বিজিবির আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্বের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এর আগে আজ সকালে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারা দেশে বিজিবি’র সকল ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী অংশগ্রহণ করেন।
দুপুরে বিজিবি মহাপরিচালক পিলখানাস্থ ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিজিবি’র একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধিতে এবং রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ ছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিজিবি জাদুঘর এবং বিজিবি চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত রাখা হয়।
দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে এশার নামাজের পর পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারা দেশে বিজিবি’র সকল রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটের মসজিদে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও অগ্রগতি, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং বিজিবি’র উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গতকাল ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যায় নিহত শহীদদের স্মরণে যোহরের নামাজের পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।