শিরোনাম

/রেজাউল করিম মানিক/
রংপুর, ২৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ঈদ-উল-ফিতরের চতুর্থ দিনেও রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
এই দিনেও সব বয়সী মানুষেরাই মেতেছে ঈদ উৎসবে।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যেন আনন্দের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে, নগরীর চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, চিকলি ওয়াটার পার্ক, তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর, শিরিন পার্ক, প্রয়াস বিনোদন পার্ক, কালেক্টরেট সুরভি উদ্যান ও টাউনহল চত্বরসহ নগরীর বাইরে গঞ্জিপুরে ভিন্ন জগৎ, পীরগঞ্জে আনন্দ নগর, কাউনিয়া তিস্তা পার্ক, মহিপুর ঘাট ও তিস্তা সেতুসহ নগরী ও আশপাশের জনপ্রিয় স্পটগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিনোদন প্রেমীদের সরব উপস্থিতি ছিলো চোখে পরার মতো।
সরেজমিনে এ সব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিনোদন কেন্দ্রগুলোর প্রধান ফটকে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন। এরা সবাই পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে এসেছেন ঘুরতে।
দর্শনার্থীদের মধ্যে শিশুদের নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ঈদের দিন থেকে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা আর নির্মল-স্নিগ্ধ পরিবেশ থাকায়, আনন্দে মেতেছে শিশু-কিশোররা। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে রংপুরের দর্শনীয় স্থান, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।
শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও এবারের ঈদে যেন উৎসবে মেতেছে।
রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র খ্যাত ইসলামপুর ও সাগরপাড়া নীলকন্ঠ এলাকায় অবস্থিত সবচেয়ে বড় বিনোদন পার্ক হিসেবে বর্তমানে আলোচিত নাম সিটি পার্ক ও চিকলি ওয়াটার পার্ক। ওয়াটার পার্কের বিশেষ আকর্ষণ ভাসমান ওয়াটার পার্ক। যেখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
এ ছাড়াও ওয়াটার পার্কের শিশুদের খেলার জায়গা, বিশাল নাগরদোলা, দীর্ঘ দিনের ট্রেন ও কৃত্রিম ঝর্ণধারায় শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণ চোখে পরার মতো।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা রংপুর চিড়িয়াখানায় একই অবস্থা দেখা যায়। সেখানে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার ও সিংহের খাঁচার সামনে সব সময় জটলা দেখা যায় শিশুদের।
এ ছাড়াও গন্ডার, জলহস্তী, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, ভালুক, কুমির, অজগর ও কচ্ছপও দেখতে দেখা যায়।
অর্ধ শতাধিক রাইডের সমাহার নিয়ে শিশু পার্কে শিশুদের উপস্থিতি অনেক বেশি। সেখানকার প্রতিটি রাইডগুলো ব্যবহারে টিকিট কাটতেও ছিল ভিড় আর ভিড়।
তবে বেশি আকর্ষণ করেছে শিশুদের রোস্টার। নৌকার আদলে তৈরি রোস্টারে শিশুদের আনন্দ উচ্ছ্বাস যেন বিশ্ব জয়ের আনন্দের মতো।
অন্যদিকে, ভয় আর রোমাঞ্চের জন্য ভূতের ঘর-সংসার রয়েছে। এই ভূতের গুহায় অনেকের প্রবেশে ভয় কাজ করলেও, ভালোই শিহরন জাগায় বলে জানিয়েছে একাধিক শিশু-কিশোর।
নগরীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর। রংপুরের অন্যতম একটি প্রাচীন নিদর্শনের কারণে ঈদে দর্শনার্থী হিসেবে সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে স্থানটি।
নগরীর বাইরে জেলার সবচেয়ে বড় পিকনিক স্পট ও পর্যটনকেন্দ্র ভিন্ন জগৎ, পীরগঞ্জে আনন্দনগর, নীলদরিয়া ও তাজ ইকোভেঞ্চার।
মিঠাপুকুরের শালবন বাগান, ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘর, গংগাচড়ায় মহিপুরঘাট ও কাউনিয়া তিস্তা পার্ক ও তিস্তা সেতুসহ বিভিন্ন স্পটগুলো বিনোদন প্রেয়সীদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো।
ঈদের ঘোরাঘুরি আনন্দময়, বৈচিত্র্যময় ও প্রশান্তির করে তুলেছে এবারের কিছুটা ঠান্ডা আর নির্মল-স্নিগ্ধ আবহাওয়া।
কথা হয় চিকলী ওয়াটার পার্কে ঘুরতে আসা ফাইজান করিমে সঙ্গে। তিনি পরিবার নিয়ে এসেছেন ওয়াটার পার্কে ঘুরতে।
তিনি বলেন, ঈদে পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে আসার মজাই আলাদা। সবাই মিলে ঘুরতে ও আনন্দ করার মাঝে প্রশান্তি আছে।
একই কথা জানান রেজওয়ানা করিম রামিশাও।
হুমায়ুন কবীর মানিক জানান, ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তিনি এসেছেন চিড়িয়াখানায়। খাঁচা বন্দি হলেও জলহস্তী, বাঘ ও সিংহ ও হরিণ দেখে অনেক খুশি ছেলে-মেয়েরা।
তারা পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরে ঘুরে দেখেছেন।
শিশু পার্কে ছেলে আদনান খুব খুশি জানান বাবা হজরত আলী।
তিনি ছেলেকে নিয়ে এসেছেন চিড়িয়াখানার শিশু পার্কে। প্রতিটি রাইডেই উঠেছে তার ছেলে।
মিঠাপুকুরে ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘরের উদ্যোক্তা লেখক আদিল ফকির জানান, এখনও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মর্ম সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান, ফকিরাবাড়ি পল্লী জাদুঘরের পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি। এরপরও এবারে পরীক্ষামূলক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এই জাদুঘর।
ঈদের তিন থেকে এখানে দর্শনার্থীদের ভালোই সাড়া পাওয়া গেছে। মানুষ গ্রামীণ পরিবেশে ঘুরতে বেড়াতে পছন্দ করে। তাই শহর থেকে অনেক দর্শনার্থী এসেছেন এই ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘরে।
আগামী ঈদের মধ্যে এই জাদুঘরের পুরো কাজ শেষ করার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
রংপুর চিড়িয়াখানার ইজারাদার হজরত আলী বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারেও ঈদ উপলক্ষ্যে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের পানি পান ও নামাজের ব্যবস্থা এবং বিশ্রামের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে পুরো চিড়িয়াখানা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সার্বক্ষণিক পুলিশ রয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ মজিদ আলী বলেন, ঈদে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট, ফুট প্যাট্রোল ও মোবাইল টিম মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও টহল টীম থাকবে প্রতিটি স্পটে, যাতে করে বিনোদন পার্কে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগের প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবারের ঈদে উৎসবমুখর পরিবেশে বিনোদন কেন্দ্রে সব শ্রেণীর মানুষ এসেছে।