বাসস
  ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৩
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৯:১১

মেঘ-পাহাড় দেখতে এসেছেন হাজারো পর্যটক

ছবি : বাসস

সৈকত দাশ

বান্দরবান, ২৩ মার্চ, ২০২৬, (বাসস) : ঈদের ছুটি মানেই আনন্দ আর ভ্রমণ। আর সেই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন পর্যটকরা পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। সবুজ পাহাড়, মেঘের খেলা আর নির্মল পরিবেশে সময় কাটাতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় এখন এখানে। নীলগিরি, নীলাচল, শৈলপ্রপাতসহ জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা গেছে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন তারা। কেউ করছেন কায়াকিং, কেউ জীফ লাইনে করে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে যাচ্ছেন। আবার কেউবা তুলছেন প্রকৃতির সাথে সেলফি।

নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে আসা ঐন্দ্রিলা বিশ্বাস বাসস’কে বলেন, বান্দরবানের প্রকৃতি অসম্ভব সুন্দর। পাহাড়গুলো যেন আমার কাছে এসেছে। চারদিক শুধু পাহাড় দিয়ে ঘেরা। দেখতে আমার মনোরম লাগছে।

ঢাকা থেকে পড়ন্ত বিকেলে নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর তা বান্দরবান না আসলে বুঝার উপায় নেই। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু আছে।

বান্দরবানের মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সুকুমার তঞ্চঙ্গ্যা বাসস’কে জানান, সকালে পর্যটকের সংখ্যা কম থাকলেও বিকেল হতে তা বেড়েছে। বিকাল ৪টা নাগাদ প্রায় ৭শ’ টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। তবে সন্ধ্যার দিকে পর্যটকের ভীড় থাকে বেশি।

এদিকে পর্যটকের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ হোটেলই আগেই বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বান্দরবান আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, বান্দরবানের সব হোটেল রিসোর্টগুলো সরকারি ছুটির কারণে বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকের বাড়তি চাপ আছে এখন।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসন নিয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। পর্যটন স্পটগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা।

বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত আছি। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সাদা পোশাকে অনেকে টহল দিচ্ছেন।

এদিকে বান্দরবানের সাত উপজেলায় ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও পর্যটকের ভীড়ের খবর পাওয়া গেছে।

ঈদের ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের আগমনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পাহাড়ি জনপদ। পর্যটকদের পদচারণায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে পর্যটকদের ঢল নেমেছে পাহাড়ে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।