শিরোনাম

বাগেরহাট, ১৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ তাদের জানাজায় শরীক হন। এমন হৃদয়বিদারক মর্মস্পর্শী ঘটনায় এলাকার মানুষ হতবিহ্বল। গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে মোংলা পৌরসভার সরকারি কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এছাড়া মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখকে রামপালে দাফন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে শেলাবুনিয়া গ্রামের পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। এ দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতি-নাতনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে জীবিত আছেন তার তিন ছেলে ও তাদের মা। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম। এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল ও নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৫৪ ধারার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিহত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ এবং মেয়ে আরফা ও ইরাম। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোবাসচালক মো. নাঈম শেখ। তার বাড়ি রামপাল উপজেলার জিগির মোল্লা এলাকায় সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। নাঈম শেখের জানাজায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম অংশ নেন।
অন্যদিকে কনের পক্ষের নিহতরা হলেন— নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে। গতকাল জুম্মা নামাজ শেষে তাদের নিজ গ্রামে এই চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে বাসসকে নিশ্চিত করেন তাদের স্বজনরা।