শিরোনাম

ঢাকা, ১২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ব্যাংকের খেলাপী ঋণ দ্রুত আদায়ে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তিতে নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এর পরিচালক মো. আলা উদ্দিনের স্বাক্ষরে নতুন এই সার্কুলার জারি করা হয়।
বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেয়া বিআরপিডি-২ এর সার্কুলার লেটার নং-০২ এ বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ে ১২ মে, ২০২৪ তারিখে জারিকৃত বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১ এর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।
উক্ত সার্কুলারের মাধ্যমে ইতোপূর্বে ব্যাংকের খেলাপী ঋণ দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি অল্টারনেটিভ ডিস্পুট রিসলিউশন (এডিআর) এর ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে এডিআর এর মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপী ঋণস্থিতির ন্যূনতম ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়।
উক্ত সার্কুলারে খেলাপী গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পরবর্তী মধ্যস্থতার পাশাপাশি প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা বিষয়েও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, খেলাপী ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহারের লক্ষ্যে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ব্যাংকার ও গ্রাহক উভয়পক্ষের সম্মতিতে মধ্যস্থতা সেবা প্রদান করছে এরূপ প্রতিষ্ঠানে তালিকাভুক্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আইনজীবী, অথবা অন্য যে কোন উপযুক্ত ব্যক্তি যাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সফলতার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে তাদেরকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে ও স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, আদালতের উপর মামলার চাপ কমানো এবং বিচারিক কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার 'প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা'র উপর অগ্রাধিকার প্রদান করছে। যেমন, বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬ ও আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এ 'প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা'র মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা হয়।
সে প্রেক্ষিতে, ব্যাংকের খেলাপী ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও 'প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা' এর বিষয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হলে তা ব্যাংকের খেলাপী ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, মামলা দায়ের পরবর্তী মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনসমূহে যে বিধান রয়েছে সে অনুসারে মামলার পক্ষসমূহ তাদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে; যেমন, খেলাপী ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে 'অর্থ ঋণ অদালত আইন, ২০০৩' এ মামলা দায়ের পরবর্তী যে কোন পর্যায়ে মধ্যস্থতার বিধান রয়েছে।
খেলাপী ঋণ আদায়ে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে মামলা দায়ের পরবর্তী মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে উল্লিখিত আইনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
উল্লিখিত প্রেক্ষাপটে ক্রমবর্ধমান খেলাপী ঋণ আদায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার আওতায় মধ্যস্থতাকে কার্যকর, ব্যয় সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ পন্থা হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অপরিসীম।
মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের আওতায় একাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
উক্ত সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের প্যানেলে যথাযথ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং মধ্যস্থতা পরিচালনায় দক্ষতার ভিত্তিতে মধ্যস্থতাকারী তালিকাভুক্ত করে থাকে।
উক্ত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্যানেল থেকে মধ্যস্থতাকারী বাছাই করা হলে ব্যাংক দ্রুত, নির্ভরযোগ্য, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও উভয়পক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে পারবে।
'প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা'র মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ব্যাংকের যোগ্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণিত বিষয়সমূহ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা যাচ্ছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীকে বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের আওতায় মধ্যস্থতা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের প্যানেলে তালিকাভুক্ত হতে হবে।
যে পক্ষসমূহের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করা হবে তিনি তাদের প্রতিনিধি বা পরিচালক বা কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না অর্থাৎ তিনি উক্ত পক্ষসমূহের সঙ্গে অতীত বা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোন প্রকৃত স্বার্থ কিংবা দৃশ্যমান স্বার্থের বিষয়ে জড়িত নন।
তার আইন, বাণিজ্য, ব্যাংকিং, কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা অথবা সংশ্লিষ্ট পেশাগত ক্ষেত্রে কমপক্ষে ০৭ (সাত) বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যাংকিং/বাণিজ্যিক চুক্তি/বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ০৩ (তিন) বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
তার ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত নীতিমালা, কার্যপ্রণালী ও প্রচলিত নিয়মাচার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের জারিকৃত সার্কুলার ও নির্দেশনার বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
তিনি দেশ বা বিদেশের স্বীকৃত কোন প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিয়েসন বা মধ্যস্থতার বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে।
তার নিরপেক্ষতা ও গোপনীয়তা রক্ষা, যোগাযোগ দক্ষতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনে অতীত সাফল্যের নজির রয়েছে।
তিনি কোনো ফৌজদারী আদালতের দ্বারা দণ্ডিত নন কিংবা কোন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের বিধিমালা, প্রবিধান বা নিয়ামাচার কিংবা আইনের কোন বিধান লংঘনজনিত কারণে কখনো দণ্ডিত হননি।
তিনি অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনজনিত কারণে চাকুরি/পেশা থেকে বরখাস্ত হননি।
তিনি কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খেলাপী নন এবং তাকে কোন সময় আদালত দেউলিয়া ঘোষণা করেনি।
মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের উল্লিখিত বিষয়াদির সমর্থনে ব্যাংক প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণাদি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রত্যয়ন পত্র/হলফনামা/অঙ্গীকারনামা ইত্যাদি গ্রহণ করবে।
আলোচ্য সার্কুলার লেটারের বিষয়টি ব্যাংক থেকে তাদের গ্রাহকগণকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১/২০২৪ এর অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ সার্কুলার লেটার জারি করা হলো, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।