শিরোনাম

মহিউদ্দীন সুমন
টাঙ্গাইল, ১০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): টাঙ্গাইল মধুপুর জীববৈচিত্র রক্ষা এবং বন্য প্রাণীর পানির সঙ্কট নিরসনে গড়গড়িয়া লেক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
লেক ও পুন:খনন ও সংস্কারের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এদিকে লেক পুন:খননের কারণে উজানের আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কাা করছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির একটি অংশ। লেকটির সংস্কারের ফলে মধুপুর বনের জীববৈচিত্রে প্রাণ ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গেছে, শালবন পুন:প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের অধীনে গত ৭ ফেব্রুয়ারি মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে গড়গড়িয়া লেকের পুন:খনন কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। এরপর থেকেই স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি অংশ নানা বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। ফলে লেক সংস্কারের কাজ সময় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। বন বিভাগ বিষয়টিকে প্রথম থেকেই উদ্দেশ্য ও বিভ্রান্তিমুলক বলে মনে করছে।
মধুপুর গড়ের ৪৫ হাজার ৫৬৫ দশমিক ১৮ একর বনভুমিতে চিত্রা হরিণ,মায়া হরিণ, মুখপোড়া হুনুমান এবং অনেক প্রজাতির পশুপাখির আবাসস্থল। এসব বন্য পশুপাখির পানির প্রয়োজন নিশ্চিত করতে ১৯৭০ সালের দিকে গড়গড়িয়া লেক খনন করা হয়। এরপর গত প্রায় ৫৫ বছরে লেকটি পুন:খনন বা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
ফলে লেকের অধিকাংশ জায়গা ভরাট হয়ে যায়। শুস্ক পানি শুন্যের কোঠায় নেমে আসে। ফলে বন্যপ্রাণী ও পশুপাখি মারাত্মক পানির সঙ্কটে পড়ে। সারা বছর বন্যপ্রাণী ও পাখির জন্য পানির নিশ্চয়তা, জলাভুমির ইকোসিস্টেম ও জলজ প্রাণ সংরক্ষণ, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে আগুন লাগলে তা নেভানোর কাজে পানির উৎস তৈরিকরণ ও লেকের কাছে গায়রা গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কৃষিকাজের সেচ সুবিধাসহ নানা লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য নিয়ে লেকটির পুন:খননের উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ।
টাঙ্গাইল বন বিভাগ জানায়, লেকটির গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে। যাতে সারাবছর বন্যপ্রাণী ও পাখি জন্য পানির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও স্থানীয়দের আবাদি জমির যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্য লেক থেকে উত্তোলন করা মাটি বনের কাছে পরিত্যক্ত জমিতে রাখা হচ্ছে। যা স্থানীয়দের আবাদি জমির থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দুরে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি গড়গড়িয়া লেক সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, মধুপুর জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লাল মিয়া ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি।
এই ব্যপারে জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বাসস’কে জানান, লেক থেকে উত্তোলন করা মাটি খুবই সর্তকতার সাথে সরানো হচ্ছে। যাতে স্থানীয়দের আবাদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
লেক পুন:খননের বিষয়ে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, গড়গড়িয়া লেকের উজানে আদিবাসীদের প্রচুর ধানী জমি রয়েছে। লেকের কাছে পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৯৭৭ সালে একটি দীর্ঘ নালা খনন করা হয়। যা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। নালাটি পরিস্কার করা দরকার। তা না হলে আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লেকটি সংস্কার হলে বনের পশু-পাখিদের জন্য সুপেয় নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা হবে বলে মনে করেন ইউজিন নকরেক।
টাঙ্গাইল বিভাগীর বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বাসস’কে জানান, সংস্কার কাজ শেষ হলে গড়গড়িয়া লেক মধুপুর গড়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও বন্যপ্রাণী টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে।