শিরোনাম

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন আজ নবনির্বাচিত সরকারের জন্য একটি সমন্বিত নীতিগত অগ্রাধিকার প্রস্তাব উপস্থাপন করে বলেছেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কাঠামোগত সংস্কারই একমাত্র পথ।
তিনি বলেন, নীতিগত পুনঃসমন্বয়ের জন্য বর্তমান সময়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা অপরিহার্য।
আজ বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা: স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদে নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব পরিসর, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুদ্রা খাতে ঝুঁকি, উচ্চ ঋণভার, জ্বালানি খাতে চাপ এবং রূপান্তরকালীন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এ পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদার, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত মুদ্রানীতি ও রাজস্ব শৃঙ্খলা জরুরি বলে তিনি জোর দেন। তার মতে, সুদের হার নীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ সরকারি ব্যয়-এই তিনটি বিষয়কে একযোগে কাজ করতে হবে; যাতে চাহিদাজনিত চাপ নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা স্থিতিশীল রাখা যায়।
এ ছাড়া সরবরাহের ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, পরিবহন অবকাঠামো ও কৌশলগত খাদ্য মজুত, বাজারভিত্তিক ও স্থিতিশীল বিনিময় হার নিশ্চিত করা, বাজার তদারকি জোরদার করা, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার গভীর করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উপস্থাপনা শেষে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নবনির্বাচিত সরকারের সামনে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের মাধ্যমে বাজারে আস্থা পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ রয়েছে।
তবে নীতিগত পুনঃসমন্বয়ের সময়সীমা খুবই সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল করা এবং দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসব কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।