শিরোনাম

ঢাকা, ০১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর খিলক্ষেতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতি ও হানিট্র্যাপের ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।
গত শুক্রবার ও শনিবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—শাহাপরান (৩০), আফজাল হোসেন (৪০), হানিফ (৪০), সাগর হাওলাদার (২৮), নাসিফ অঙ্কন (২৮) ও ফরহাদ সোহান (৩৩)।
খিলক্ষেত থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোরে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন লেকপাড় সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় শাহাপরান, আফজাল হোসেন ও হানিফকে গ্রেফতার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।
এ সময় গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থাকা ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মিনি ট্রাক ও নয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়
খিলক্ষেত থানা সূত্রে আরও জানা যায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাসরত মো. জসীম উদ্দিনের সঙ্গে ফেসবুকে হাফিজা নামের এক তরুণীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাফিজা খিলক্ষেত রাজউক মার্কেটের উত্তর পাশের গেটে দেখা করার কথা বলে।
জসীম সেখানে অপেক্ষা করলে গ্রেফতারকৃত সাগর, অঙ্কন ও ফরহাদ তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। হাফিজা রাজউক মার্কেটের ৪র্থ তলার একটি রেস্টুরেন্টে আছে বলে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে জসীম তাদের সেঙ্গ সেখানে যেতে অস্বীকার করে।
এতে গ্রেফতারকৃতরা তাকে জোর করে আটক করে মারধর করে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সেখানে তাকে আটকে রেখে তার মোবাইল ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আরও টাকা দাবি করে।
টাকা না পেয়ে তারা মোবাইল ও লাইসেন্স রেখে দেয় এবং যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর দেয়।
পরে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে।
এ ঘটনায় ভোক্তভোগী মো. জসিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খিলক্ষেত থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজউক মার্কেট সামনে থেকে সাগর হাওলাদার ও নাসিফ অঙ্কনকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফরহাদ সোহানকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে ভিকটিমের ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা ও পলাতক হাফিজা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ছিনতাই চক্রের সক্রিয় সদস্য।
তারা ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের নামে ফেক প্রোফাইল খুলে যুবকদের টার্গেট করতো বলে স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।