বাসস
  ০১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৭

রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার ১

ঢাকা, ১ মাচর্, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকায় খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শাহিন আলম (২১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। 

আজ (রোববার) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ২টার দিকে পল্টন থানা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশ থেকে মো: ওবায়দুল্লাহ (৩০) নামে এক ব্যক্তির একটি খণ্ডিত পা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বায়তুল মোকারমের স্টেডিয়াম সংলগ্ন গেটের পাশ থেকে এবং দুপুর ২টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর শরীরের কয়েকটি অংশ উদ্ধার করা হয়। 

পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। গতকাল (শনিবার) দুপুরে মতিঝিল থানার হীরাঝিল হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় শাহিন আলমকে। 

পরে তার দেওয়া তথ্যমতে কবি জসীমউদ্দীন রোডের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ভিকটিমের মোবাইল ফোন এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত সাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড় থেকে নিহতের শরীরের আরও কয়েকটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার শিকার মো: ওবায়দুল্লাহ রাজধানীর একটি হোমিও ক্লিনিকে মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলো। গত দু’মাস ধরে ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন শাহীন। সে হীরাঝিল হোটেলে কাজ করে। 

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হোটেল থেকে বাসায় ফেরার পথে ওবায়দুল্লাহ ফোন করে সিগারেট আনতে বলে শাহীনকে। শাহীন টাকা নেই বললে ওবায়দুল্লাহ তাকে টাকা দেয় এবং সে সিগারেট এনে দেয়। কিছুক্ষণ পর ওবায়দুল্লাহ তাকে আবার রুটি ও কাবাব আনতে বলে। 
রমজান মাসে ইফতারের পর ছয়তলা থেকে বারবার নিচে নামায় শাহীনের বিরক্তির উদ্রেক হয়। রাতে শাহীন ঘুমানোর চেষ্টা করলে ওবায়দুল্লাহ উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলা শুরু করে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে সে। 

তাছাড়া ওবায়দুল্লাহর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া অনৈতিক প্রস্তাবে আগে থেকেই তার ওপর ক্রুদ্ধ ছিল বলেও দাবী গ্রেফতার শাহিনের। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামি নিজেকে বাঁচাতে দেহটিকে খণ্ড খণ্ড করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।