শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নতুন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে আজ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কাঠামোগত সংস্কার, ডিজিটাল সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিন ও তারপর’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এই আহ্বান জানান।
সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার গভীরতা বিবেচনায় দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। ১৮০ দিনের পরিকল্পনা ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও আগামী পাঁচ বছর জুড়ে সতর্ক ও ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন।
সিপিডি মনে করে, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি ইউনিফাইড ডিজিটাল ইন্টারফেস গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর জোর দিয়েছে সিপিডি।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস)’ বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দেয় সিপিডি। এছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক মানের কমার্শিয়াল কোর্ট গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সিপিডি।
গ্যাস সংকট মোকাবেলায় এলএনজি নির্ভরতা বাড়ানোর পরিবর্তে দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান জোরদার এবং বাপেক্সকে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সিপিডি। এছাড়া ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পে’ নীতি এবং নতুন কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি।
পাকিস্তান-আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ড. মোয়াজ্জেম।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে হওয়া চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি টেকনিক্যাল অডিট সম্পন্ন এবং কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সিপিডি।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে সংস্থাটি।