শিরোনাম

খুলনা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) :ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো খুলনা সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। গতকাল শুক্রবার দুপুর একটা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এসময় কেউ জুমার নামাজ শেষ করেছেন, কেউ নামাজে দাঁড়িয়েছেন আবার কোন কোন মসজিদে জুমার নামাজের সিজদা চলছে। কোথাও আবার চলছে মোনাজাত।
আবহাওয়া দপ্তর বলছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি থেকে মাঝারি মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্পের কারণে মুসল্লিদের মধ্যেও এক প্রকার আতংকের সৃষ্টি হয়। শিশুদের অনেকে কেঁদে ওঠে।
খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনিতে।
তবে ভূমিকম্পের মাত্রা দ্রুত সংগ্রহ, নির্ধারণ এবং প্রচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক এনজিও ইএমএসসি’র তথ্য বলছে, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বে এবং খুলনার শিববাড়ি থেকে ৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪।
ভূমিকম্প চলাকালে অধিকাংশ মসজিদে জুম্মার নামাজ চলছিল। নগরীর সোনাডাঙ্গা হাফিজ নগরের মসজিদে আমানতের মুসল্লি জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, অনেক সময় ধরে মসজিদ যেন দুলছিল। তখন নামাজের প্রথম রাকাত চলে। নামাজ শেষে মোনাজাতেও মসজিদের ইমাম সকল প্রকার দুর্যোগ থেকে দেশকে রক্ষার জন্য দোয়া করেন।
পশ্চিম রূপসার দাদা ম্যাচ কাদেরিয়া জামে মসজিদের মুসল্লী রহমত আলী সানা বলেন, ২য় রাকাত শুরু হওয়ার একটু পরেই দুলুনি শুরু হয়। মনে হচ্ছিল মসজিদের মেঝে ধরে কেউ দোলাচ্ছে।নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বিশেষ মোনাজাত করেন।
এদিকে, খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন মোল্লাপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ভূমিকম্পের সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হয়ে পুরো বাড়ির সবকিছু পুড়ে যায়।
পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দাকোপে একটি ট্রলার ডুবেছে বলেও খবর পাওয়া যায়।
তবে জুমার নামাজের পর জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার বলেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য পাওয়া গেলে তিনি জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন।