শিরোনাম

শফিকুল ইসলাম বেবু
কুড়িগ্রাম, ২৬ ফেব্রুয়ারি,২০২৬ (বাসস): জলবায়ু পরিবর্তন ও পলি জমে নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় জেলার ধরলা নদী ও বারোমাসিয়া নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর বুকে জেগে উঠেছে প্রায় আড়াই শতাধিক চর। চরে চাষ হচ্ছে ফসল, চারিদিকে সবুজ সমারোহ।
এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলেও চরাঞ্চলে বোরো ধান, ভুট্টা ও তামাকসহ নানা ফসলের চাষ হচ্ছে। তবে মাছের আবাস নষ্ট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলে পরিবারগুলো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলা এলাকায় ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে কৃষকরা গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে বোরো ধান, ভুট্টা, তামাক, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নদীতে পানি কম থাকায় অনেক স্থানে মানুষ পায়ে হেঁটে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক সময় এসব নদী ভয়াবহ ভাঙনে ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি বিলীন করলেও বর্তমানে নদীর বুকে জেগে ওঠা পলিমাটিতে ফসল চাষ করে তারা জীবন ধারণ করছেন। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ২৮ মণ বোরো ধান পাওয়ার আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারদর নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে।
একই সঙ্গে নদীতে নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় জেলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছে। এক সময় ধরলা ও আশপাশের নদীতে বোয়াল, কাতলা, রুই, টেংরা, কর্তী, ভেটকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করে তারা জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে পানি প্রবাহ কম থাকায় মাছের দেখা মিলছে না বলে জানান তারা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন বাসসকে জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ২০৫ হেক্টর, যার বিপরীতে অর্জন হয়েছে ১০ হাজার ৫০ হেক্টর। এর মধ্যে ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর অববাহিকায় বোরো চাষ হয়েছে ১২ হেক্টর। পাশাপাশি উপজেলায় ২ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে, যার মধ্যে নদীর বুকে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা ও ৪ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের মতো চলতি মৌসুমেও বোরো ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ফলন ভালো হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কৃষকরা বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।