বাসস
  ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:২২

ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে নাব্যতা সংকটে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ছবি : বাসস

আল-আমিন শাহরিয়ার

ভোলা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ভোলা-লক্ষ্মীপুর-নৌপথের আরেক নাম ভোগান্তি। মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। তার সঙ্গে নাব্য সংকট তো আছেই। এ কারণে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের উভয় ঘাটের লঞ্চ এবং ফেরিগুলিকে।

ভোলার মেঘনা নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথ। জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভর করে চলছে নৌযানগুলি। ভোলা থেকে নৌযানগুলিকে ডুবোচর এড়িয়ে ১২ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে লক্ষ্মীপুর ঘাটে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকছে যানবাহন। আসন্ন ঈদে ভোগান্তি এড়াতে নদী ড্রেজিং করার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট এলাকায় ঘাট স্থানান্তর করার দাবি এই রুটের নৌযান ব্যবহারকারীদের। 

সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, ভোলার ইলিশা ঘাটের কাছে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের নৌযানগুলো কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছে। এমন একাধিক ডুবোচর রয়েছে মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে। বিশেষ করে মেঘনা নদীর ভোলা অংশ থেকে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাটে ঢুকতে চর রমনির প্রায় ৪ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে ওই নৌ-চ্যানেলে ফেরি একবার আটকে গেলে জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।

এছাড়াও মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত সময় লাগায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার যানবাহনে থাকা কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য। 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিওটিসি)'র কর্মকর্তারা জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে সময় বেশি লাগায় ফেরিগুলোর ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। এতে সরকার রাজস্ব কম পাচ্ছে। তাই ড্রেজিং এর পাশাপাশি ঘাট স্থানান্তর করার দাবিও জানান তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ভোলা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক, (ফেরি সার্ভিস)-মো. কাউছার আহাম্মেদ বাসসকে জানান, নাব্যতা সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি সুরাহার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে একই অবস্থা ভোলা-বরিশাল নৌরুটেও। ভোলার ভেদুরিয়া ঘাটের পশ্চিমে ও শ্রীপুর এলাকায় রয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। এতে ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল। অভিযোগ রয়েছে, বছরের পড় বছর খনন কাজ হলেও কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই।

দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ড্রেজিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। 

সংস্থাটির ভোলা নদী বন্দর বিভাগের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বাসসকে জানান- নাব্যতা সংকটে ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান আছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এখানকার নদনদীর নাব্যতা ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে। খুব শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ভোলা ও লক্ষ্মীপুর নৌপথে ফেরি ও অন্যান্য নৌযান চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘ ১৮বছর পেরিয়ে গেলেও নাব্যতা সংকটে দুর্ভোগ কাটেনি এ পথে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের। তাই দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করে এই নৌ-রুটটিকে সচল রাখার দাবি নৌযান ব্যবহারকারীদের।

তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-লক্ষ্মীপুর-বরিশাল নৌপথে ১০টি রো রো (বড়) ফেরি ও ২০টিরও বেশি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। এসব নৌযানের মাধ্যমে এ পথে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজারেরও অধিক যাত্রী চলাচল করেন। নৌযান ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কাটাতে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম এ নৌপথের নাব্যতা ফেরাতে কার্যকর খননকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ভোলাবাসী।