শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রামের হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে নয় জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেন (৪৯) ও তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০) মারা গেছেন।
এ নিয়ে ভয়াবহ এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়াল।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে মারা যান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি।
গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেন ও আশুরা আক্তার পাখির শরীরের শতভাগ দগ্ধ নিয়ে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ ছাড়া তাদের ইনহেলেশন ইনজুরি (শ্বাসনালিতে দগ্ধজনিত ক্ষতি) ছিল, যা দুজনের শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান বলে নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
এর আগে, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের এইচ ব্লকে এসি মসজিদ সংলগ্ন ছয়তলা ভবন হালিমা মঞ্জিলের ৩য় তলায় গ্যাসের বিস্ফোরণের এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে দগ্ধ হন গৃহকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), তার স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী (৪০), ছেলে শাওন (১৬) মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন (৪০), তার স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩৫), মেয়ে আয়েশা (৪), ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস (৬) ও সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন হোসেন (৩০)।
বার্ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে নয় জনকে সোমবার সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ দগ্ধ শাওন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মারা যান। এর আগে ১০০ শতাংশ দগ্ধ নুরজাহান আক্তার রানীকে সন্ধ্যার পর জরুরি বিভাগে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সামির আহমেদ সুমনের মৃত্যু হয়। তার শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল, তার ইনহেলিশন ইনজুরি ছিল।
মঙ্গলবার রাতে মারা যান আশুরা আক্তার পাখি, আর আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু ঘটে।
বাকি ৪ জনের মধ্যে গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ, ভাইয়ের মেয়ে আয়েশার ৪৫ শতাংশ, ভাইয়ের ছেলে আনাসের ৩০ শতাংশ ও ছোট ভাই শিপনের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবার অবস্থাই আশংকাজনক।
সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন পরিবারের এ পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সবার লাশ তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই দাফন করা হচ্ছে।
সাখাওয়াত হালিশহরে মোটরপার্টসের ব্যবসা করেন। তার ভাই সামির আহমেদ সুমন পর্তুগাল প্রবাসী। চলতি মাসের ৪ তারিখ দেশে এসেছেন। ১৮ তারিখে সুমন পরিবার নিয়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় যান চিকিৎসার জন্য।
আরেক ছোট ভাই শিপন হালিশহরেই থাকেন। সোমবার ভোরে তারা সেহরী খান। এর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ ঘটে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর প্রথমে দগ্ধদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা তখন সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান।
পরে দগ্ধ সবাইকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
ঘটনার কারণ উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিস্ফোরণের পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সুস্পষ্ট কারণ জানা যায়নি।