বাসস
  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৯

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও এক নারীর মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৪

ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রামের হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে আশুরা আক্তার পাখি নামে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়াল।

৩০ বছর বয়সী আশুরা আক্তার পাখি শরীরের শতভাগ দগ্ধ নিয়ে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া তার ইনহেলেশন ইনজুরি (শ্বাসনালিতে দগ্ধজনিত ক্ষতি) ছিল। যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।

এরআগে একইদিন দুপুর ১২টার দিকে ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদের মৃত্যু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখিও মারা যান। সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ১৬ বছর বয়সী শাওন, যিনি সামিরের ভাতিজা।

এরআগে গত সোমবার গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ নয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে শাওনের মা ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানীর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মৃতরা হলেন—রানী, শাওন, সামির ও পাখি। চিকিৎসকদের ভাষ্য, বাকি পাঁচজনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। প্রতিবেশীরা জানান, আগুন লাগার পর শরীরে আগুন নিয়ে একে একে বাসার সদস্যরা বের হয়ে আসেন।

দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হন। তারা সে সময় সেহরি করছিলেন।

মৃতদের বাইরে দগ্ধরা হলেন—গৃহকর্তা সাখাওয়াত (৪৬), তার মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সামিরের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, গৃহকর্তা সাখাওয়াতের শরীরের শতভাগ পুড়েছে। শিপনের ৮০ শতাংশ, আইমানের ৩৮ শতাংশ, আনাছের ৩০ শতাংশ এবং আয়েশার ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর প্রথমে দগ্ধদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা তখন সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান। এরপর তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

ঘটনার কারণ উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিস্ফোরণের একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সুস্পষ্ট কারণ জানা যায়নি।

এ ঘটনায় ভবনটির অন্তত ১৫টি দরজা ভেঙে গেছে, লিফটের দরজা বেঁকে গেছে এবং পাশের ভবনের বেশ কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে পড়েছে।