বাসস
  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৮

দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতমে তারাবিহ পড়তে ইফা’র আহ্বান

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র রমজান মাসে দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে খতমে তারাবিহ পড়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)।

মঙ্গলবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে খতমে তারাবিহ নামায আদায় অর্থাৎ প্রথম ছয় দিনে দেড় পারা করে নয় পারা এবং পরবর্তী ২১ দিনে এক পারা করে তিলাওয়াতের মাধ্যমে খতমে তারাবীহ আদায়ের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রায় সব মসজিদে খতমে তারাবিহ নামাজে পবিত্র কুরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তিলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে। তবে কোনো-কোনো মসজিদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী কর্মজীবী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে পবিত্র কুরআন খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে একটি অতৃপ্তি ও মানসিক চাপ অনুভূত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র কুরআন খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি নিরসনকল্পে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ছয় দিনে দেড় পারা করে নয় পারা এবং পরবর্তী ২১ দিনে এক পারা করে ২১ পারা তিলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ শবে কদরে পবিত্র কুরআন খতম করা সম্ভব হবে।

এমতাবস্থায় দেশের সব মসজিদে খতমে তারাবিহ নামাজে প্রতিদিন পবিত্র কোরআনের নিম্নলিখিত সূরা ও আয়াত তিলাওয়াত করার জন্য মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, মুসল্লি এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে অনুরোধ করা হলো।

১ম তারাবিহ সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারার ১ আয়াত থেকে ২০৩ আয়াত পর্যন্ত, ২য় তারাবিহ সূরা বাকারার ২০৪ আয়াত থেকে সূরা আলে ইমরানের ৯১ আয়াত পর্যন্ত, ৩য় তারাবিহ সূরা আলে ইমরানের ৯২ আয়াত থেকে সুরা নিসার ৮৭আয়াত পর্যন্ত, ৪র্থ তারাবিহ সূরা নিসার ৮৮ আয়াত থেকে সূরা মায়িদার ৮২ আয়াত পর্যন্ত, ৫ম তারাবিহ সূরা মায়িদার ৮৩ আয়াত থেকে সূরা আ'রাফের ১১ আয়াত পর্যন্ত, ৬ষ্ঠ তারাবিহ সূরা আ'রাফের ১২ আয়াত থেকে সূরা আনফালের ৪০ আয়াত পর্যন্ত, ৭ম তারাবিহ সূরা আনফালের ৪১ আয়াত থেকে সূরা তাওবার ৯৩ আয়াত পর্যন্ত, ৮ম তারাবিহ সূরা তাওবার ৯৪ আয়াত থেকে সূরা হূদের পাঁচ আয়াত পর্যন্ত, ৯ম তারাবিহ সূরা হুদের ছয় আয়াত থেকে সূরা ইউসুফের ৫২ আয়াত পর্যন্ত, ১০ম তারাবিহ সূরা ইউসুফের ৫৩ আয়াত থেকে সূরা হিজরের ১ আয়াত পর্যন্ত, ১১তম তারাবিহ সূরা হিজরের ২ আয়াত থেকে সূরা নাহলের শেষ পর্যন্ত, ১২তম তারাবিহ সূরা বনি ইসরাঈলের ১ আয়াত থেকে সূরা কাহাফের ৭৪ আয়াত পর্যন্ত, ১৩তম তারাবিহ সূরা কাহাফের ৭৫ আয়াত থেকে সূরা ত্বহার শেষ পর্যন্ত, ১৪তম তারাবিহ সূরা আম্বিয়ার ১ আয়াত থেকে সূরা হজের শেষ পর্যন্ত, ১৫তম তারাবিহ সূরা মু'মিনুনের ১ আয়াত থেকে সূরা ফুরকানের ২০ আয়াত পর্যন্ত, ১৬তম তারাবিহ সূরা ফুরকানের ২১ আয়াত থেকে সূরা নামলের ৫৯ আয়াত পর্যন্ত, ১৭তম তারাবিহ সূরা নামলের ৬০ আয়াত থেকে সূরা আনকাবুতের ৪৪ আয়াত পর্যন্ত, ১৮তম তারাবিহ সূরা আনকাবুতের ৪৫ আয়াত থেকে সূরা আহযাবের ৩০ আয়াত পর্যন্ত, ১৯ তম তারাবিহ সূরা আহযাবের ৩১ আয়াত থেকে সূরা ইয়াসিনের ২১ আয়াত পর্যন্ত, ২০তম তারাবিহ সূরা ইয়াসিনের ২২ আয়াত থেকে সূরা যুমারের ৩১ আয়াত পর্যন্ত, ২১তম তারাবিহ সূরা যুমারের ৩২ আয়াত থেকে সূরা হামিম সিজদাহের ৪৬ আয়াত পর্যন্ত, ২২তম তারাবিহ সূরা হামিম সিজদাহর ৪৭ আয়াত থেকে সূরা জাছিয়ার শেষ পর্যন্ত, ২৩তম তারাবিহ সূরা আহক্বাফের ১ আয়াত থেকে সূরা যারিয়াতের ৩০ আয়াত পর্যন্ত, ২৪তম তারাবিহ সূরা যারিয়াতের ৩১ আয়াত থেকে সূরা হাদিদের শেষ পর্যন্ত, ২৫তম তারাবিহ সূরা মুজাদালাহর ১ আয়াত থেকে সুরা তাহরিমের শেষ পর্যন্ত, ২৬তম তারাবিহ সূরা মুলকের ১ আয়াত থেকে সূরা মুরসালাতের শেষ পর্যন্ত এবং ২৭তম তারাবিহ সূরা নাবার ১ আয়াত থেকে সূরা নাস পর্যন্ত।