শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘নতুন সরকার শপথ না নিতেই আন্দোলনের ডাক, এটা ভালো লক্ষণ নয়। বিরোধী দলকেও বাংলাদেশের জনগণের সুখ-দুঃখের কথা চিন্তা করে কর্মসূচি দেওয়া উচিত।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যভুক্ত দলগুলো আজ সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এর সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, নতুন সরকার এখনো শপথই নেয়নি, অথচ আজকেও আন্দোলনের ডাক দেওয়া হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য ভালো সাইন (লক্ষণ) নয়। অপেক্ষা করতে হবে।’
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি ওই সভার প্রধান অতিথি ছিলেন।
নতুন সংসদে বিরোধী দলের নেতাদের ভূমিকা কেমন হবে এ প্রসঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘তারেক রহমান বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় গেছেন। এ আচরণ বাংলাদেশে একেবারে নতুন। বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে এটি সুবাতাস বয়ে নিয়ে এসেছে। আমরা বিরোধী দলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আশা করি। তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। জনগণকে বিপদে ফেলবে না, কথায় কথায় রাজপথ অবরুদ্ধ করে জনগণকে কষ্ট দেবে না।’
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তবে, একটি ছোট মন্ত্রিসভা হবে বলে শুনেছি। দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, অবদান রেখেছেন, নিশ্চয়ই তারা এই মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। আশা করি, যাদের দুর্নীতির বদনাম নেই, যাদের দক্ষতা ও জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা আছে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে কখনো আপস করবে না, তাদের এই মন্ত্রিসভায় রাখা হবে। নবীন ও প্রবীণদের সংমিশ্রণে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।’
এম এ জি ওসমানীকে স্মরণ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জেনারেল এম এ জি ওসমানীর যে মর্যাদা ও সম্মান স্বাধীন দেশে পাওয়া উচিত ছিল, তা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি, এই জাতিরই ক্ষতি হয়েছে। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান, স্বাধীনতাযুদ্ধে তার মতো একজন অধিনায়ক পেয়েছিলাম।’
এ আলোচনা সভার আয়োজন করে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)। সভায় রাওয়া চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক স্বাগত বক্তব্য এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) আবু নওরোজ খুরশিদ সূচনা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ জি মাহমুদ, মেজর (অব.) জামিল ডি আহসান, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, রাওয়ার সদস্য এয়ার কমোডর (অব.) মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাঙালির মধ্যে দলাদলির প্রবণতা নতুন কিছু নয়— সামরিক বা বেসামরিক, সব ক্ষেত্রেই এর উপস্থিতি দেখা যায়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় এমন বিভাজন ছিল না। এর বড় কারণ ছিলেন কর্নেল (পরবর্তীকালে জেনারেল) আতাউল গনি ওসমানী। তার ব্যক্তিত্ব, চলাফেরা, জীবনাচরণ ও শৃঙ্খলা এতটাই নিখুঁত ছিল যে, পদমর্যাদা অনুযায়ী সবাই তাকে সম্মান দিতেন, যা স্বাভাবিকভাবেই তিনি প্রাপ্য ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নানা বিতর্কে জড়ানো হয়েছে। প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়নি। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নিজেদের কৃতিত্ব প্রচারের প্রবণতা বেশি, অন্যের অবদান স্বীকারে অনীহাও আছে।’
জেনারেল ওসমানীর অবদান তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র পূর্ণতা পায়নি। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু হলে মাত্র দু’জন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ও জেনারেল ওসমানী প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। ওসমানী বলেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে, সেটিকে নির্বাসনে পাঠানো যায় না। মতামত গুরুত্ব না পেলে তিনি পদত্যাগ করেন, যা তার নৈতিক দৃঢ়তার পরিচায়ক।
এর আগে শফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে মরণোত্তর ফিল্ড মার্শাল খেতাব দিতে নতুন সরকারের কাছে দাবি জানান। অন্যরাও তার এ বক্তব্যকে সমর্থন জানান। পরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ দাবির বিষয়ে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেন।