শিরোনাম

খুলনা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি তার নির্বাচনি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হেভিওয়েট প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ২ হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে লবি আলোচনায় আসেন। খুলনা-৫ আসনে তার জয় জেলা এবং এর বাইরেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনের পর লবি বলেন, বিল ডাকাতিয়া এবং ডুমুরিয়ার আশেপাশের গ্রামগুলিতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আলী আসগর লবি এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বাসসকে বলেন, বিল ডাকাতিয়ার হাজার হাজার মানুষ বারবার জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আমি এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করব। এজন্য প্রয়োজনমতো আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেব।’ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, আমার মূল লক্ষ্য এলাকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ, একটি আধুনিক বিশ্রামাগার, একটি আইটি পার্ক এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কের উন্নয়ন।
ডুমুরিয়ায় নিজের পৈতৃক বাড়ির কথা উল্লেখ করে লবি বলেন, ডুমুরিয়া ও ফুলতলার মানুষ আমার উপর আস্থা রেখেছেন। তাই এলাকাবাসীর সাথে পরামর্শ করেই এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করবো।
আলী আসগর বলেন, ডুমুরিয়া-ফুলতলায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্দশার প্রতীক হিসেবে পরিচিত বিল ডাকাতিয়াকে পরিকল্পিত হস্তক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনার মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য ও উৎপাদনশীল অঞ্চলে রূপান্তর করা যেতে পারে। এই অঞ্চলকে বছরব্যাপী চাষাবাদ, উন্নত পরিবহণ এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধার জন্য উপযুক্ত করে তোলা হবে।
এই অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাক-সবজি বিদেশে রপ্তানি করা হয়। যার ফলে কৃষকরা যথেষ্ট আয় করতে সক্ষম হন। রপ্তানি গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য সংরক্ষণ সুবিধা স্থাপন করা হবে। হিমাগার সুবিধা এবং কৃষকদের অব্যাহত সহায়তার মাধ্যমে চিংড়ির মান উন্নত করার পদক্ষেপের উপরও জোর দেন তিনি।
লবি আশ্বস্ত করে বলেন, আমি রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে ভোটারদের রায়কে সম্মান করি। তাই এলাকার বাসিন্দাদের সবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমার অন্যতম দায়িত্ব। আমি ভিন্ন ভিন্ন মতামতের মানুষের বিবেচনাধীন রায়কে উচ্চ সম্মান করি এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিএনপির স্থানীয় দলীয় সূত্র জানায়, তিনি আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আমলে খুলনায় একটি আধুনিক বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা হয়।
আগামী সংসদে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন, আমি আন্তরিকতার সাথে তা পালন করব।’