বাসস
  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২০

শারীরিক সীমাবদ্ধতা হার মেনেছে নাগরিক দায়বদ্ধতার কাছে

শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তুচ্ছ করে ভোটাধিকার প্রয়োগের অদম্য ইচ্ছায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন চল্লিশোর্ধ্ব নারী আসমা আক্তার। ছবি: বাসস

\ নুসরাত সুপ্তি \ 

নারায়ণগঞ্জ, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় আজ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছিল। এরই মধ্যে ফতুল্লা পিটিআই (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। রোদ উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত মানুষ। 
ভোটারদের লাইনের একপাশে ক্রাচে ভর করে দাঁড়িয়ে ছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব নারী আসমা আক্তার। জন্মগতভাবেই তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না। কিন্তু সেই শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তুচ্ছ করে ভোটাধিকার প্রয়োগের অদম্য ইচ্ছায় তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে ছোট বোনের সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্রে আসেন আসমা আক্তার। ক্রাচে ভর দিয়ে তৃতীয় তলার বুথে উঠতে গিয়ে বেশ হাঁপিয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাকে উপরে তুলতে বেশ বেগ পেতে হয় তার বোন বিথীকে।

তবে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর আসমা আক্তারের  চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। তিনি বলেন, ‘শরীরে বল নাই, শরীর অসুস্থ। তাও মনে হইলো ২০০৮ সালের পর তো আর ভোট দেই নাই, ভোটটা দেওয়া দরকার। আমাগো মতো মানুষরে কেউ দাম দেয় না, কিন্তু আমাগো ভোটেরও দাম আছে। পছন্দের মানুষটারে ভোট দিয়া শান্তি পাইলাম। দোয়া করি, যেন দেশটার ভালো কিছু হয়।’

বোনকে নিয়ে গর্ব করে বিথী আক্তার বলেন, ‘সবাই বলে প্রতিবন্ধী মানুষ, ভোট দেওয়ার কি দরকার ? এতো কষ্ট করে কেন যাবা ? কিন্তু আমার বোনের ইচ্ছে সে ভোট দিবেই। ও বলে আমি প্রতিবন্ধী হলেও তো দেশের মানুষ।’

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বোনকে নিয়ে জেলার ফতুল্লার লালখা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন বিথী আক্তার। তিনি জানান, তাদের বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরে বোনকে দেখার কেউ নেই। তার সংসারেই বোন থাকেন। বোনকে তিনি নিজেই দেখাশোনা করেন।  

ফতুল্লার পিটিআই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. মজনুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

তিনি বলেন, ‘বয়স্ক ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তাঁদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়।’