শিরোনাম

আল-আমিন শাহরিয়ার
ভোলা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আর মাত্র একদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শেষ সময়ের এদিনে ভোলার চারটি আসনে ভোটের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। ভোটের ছুটি পেয়ে সাধারণ ভোটাররা এরইমধ্যে বাড়ি আসতে শুরু করেছেন। দীর্ঘ ১৭ টি বছরের না দেয়া ভোটের যন্ত্রণা এবার মেটাতে মানুষ যেনো নিজ এলাকায় হুমড়ি খেয়ে আসতে শুরু করেছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহী ও বরিশালসহ দেশের নানা প্রান্ত হতে হাজারো মানুষ নারীর টানে বাড়ি ফিরছেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। জীবিকার তাগিদে অন্য জনপদে বসবাসরত ভোলার ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। অনেকের চোখেমুখে ঈদের আনন্দের মতোই উচ্ছ্বাস—দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে খুশি তারা।
আজ মঙ্গলবার সকালে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের ঢল। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং ভোট দেয়ার আনন্দে মুখর পুরো এলাকা।
ভোলার মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেশন কোম্পানির ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন বাসসকে জানান, আমাদের কর্ণফুলী সিরিজের লঞ্চগুলোতে এখন যাত্রীদের ভীড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবাই ভোটের ছুটিতে বাড়ি ফিরছেন।
এদিকে, ভোলার ফেয়ারী নেভিগেশন কোম্পানির ম্যানেজার ইকবাল হোসেন জানান, তাদের তাসরিফ সিরিজের লঞ্চগুলোতে অসংখ্য মানুষ বোরহানউদ্দিন-দৌলতখানের নিজ এলাকায় আসছেন। এজন্য এ লঞ্চে যাত্রীদের কাছ থেকে নামমাত্র ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
তবে এ আনন্দযাত্রায় ভোগান্তির অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি লঞ্চ ও ভোলাগামী বিভিন্ন যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে করে সাধারণ যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।
যাত্রীরা জানান, দীর্ঘ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশ গঠনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ থেকেই তারা বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু পথে পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও হয়রানি সেই আনন্দ ম্লান করে দিচ্ছে।
এ অবস্থায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেছেন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা।
ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে গিয়ে কথা হয়, ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে ভোট দিতে ভোলায় আসা লঞ্চ যাত্রী, কামাল, শহিদুল, হান্নান ও কামরুল মিয়ার সাথে। তাদের সকলের মুখে একই সুর, একই কথা।
তারা বলছেন-এবার বুকভরা আসা নিয়ে আমরা বাড়িতে এসেছি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবো বলে। কর্মস্থল থেকে নিজ জেলায় পরিবারের কাছে এসে যেনো ঈদের আনন্দই পাচ্ছি।
খুলনা থেকে পরিবারসহ ভোলায় আসা গৃহিনী তাহমিনা বেগমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভোটার হয়েছিলাম ১০ বছর আগেই, কিন্তু ভোট কেমন তা দেখিনি। এবার জীবনের প্রথম ভোট দিতে বাড়ি এসে আনন্দের অনুভূতিটা যেনো ব্যাতিক্রম। মনে হয় যেনো দীর্ঘবছর স্বৈরশাসক কর্তৃক ছিনিয়ে নেয়া পাওনা ভোটের হিস্যা বুঝে নিতে এসেছি। ভোট দেয়ার প্রত্যাশায় মুখিয়ে থাকা অসংখ্য মানুষের এমন অনুভূতি যেনো শিকলবন্দী গণতন্ত্র উদ্ধারে এক যুদ্ধ বিজয়ের মুক্ত বিহঙ্গের কথাই মনে করিয়ে দেয়।