শিরোনাম

খুলনা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছরে যারা বারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে, তারা সুশাসন ও নৈতিকতার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তনের প্রত্যাশায় একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।
আজ সোমবার বিকেলে খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমনি কেডিএ মার্কেট চত্বরে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা দলগুলো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা বারবার পরীক্ষায় ফেল করেছে, তাদের আবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শাসক নয়, জনগণের ‘খাদেম’ হিসেবে কাজ করবে এবং মন্ত্রী-এমপিরা কোনো বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করবেন না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি ডুমুরিয়া-ফুলতলাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘আমার টাকা, আমার হিসাব’ এবং ‘ডিজিটাল পাওয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে গুলির মুখে দাঁড়িয়েছিল, তারা এবার ব্যালটের মাধ্যমে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেবে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু তার বক্তব্যে নারীদের ওপর সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেন এবং নৈতিক চরিত্রসম্পন্ন নেতৃত্বকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমীর সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস এবং ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি হরিদাস মন্ডলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।